বগুড়ায় তিন মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর
বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের কানছগাড়ি এলাকায় তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
মন্দিরগুলোর কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে কোনো একসময় কানছগাড়ি এলাকার কানছগাড়ি শিবমন্দির, শীতলা মন্দির ও মহাশ্মশান মন্দিরে হামলা চালিয়ে চার-পাঁচটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।
বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য কনক দেব, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।
মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নিয়মিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে ভক্তরা প্রতিমাগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
কানছগাড়ি মহাশ্মশান কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি মাসের নির্ধারিত শনিবারে আমাদের এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। শনিবারের সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষে এসে আমরা দেখতে পাই, তিনটি মন্দিরেরই প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত।’
শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর দত্ত বলেন, ‘একসঙ্গে তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। আমরা এই সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বর্বরতার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘প্রতিমাগুলো কবে ভাঙচুর করা হয়েছে, তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারছেন না। আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখছি। তবে মন্দিরগুলো লোকালয়ের বাইরে হওয়ায় দুর্বৃত্তরা কাজটা সহজে করতে পেরেছে। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘যে তিনটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙা হয়েছে, সেগুলো গ্রাম থেকে দূরে মাঠের মধ্যে অবস্থিত। প্রতিমাগুলো দেখে মনে হচ্ছে, এগুলো কয়েক দিন আগে ভাঙা হয়েছে। পরে গ্রামের লোকজন জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’