একের পর এক আক্রমণ করল তুরস্ক, জিতল অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাচের মাত্র ২৬ শতাংশ সময় বল দখলে রাখতে পারল অস্ট্রেলিয়া। তবে রক্ষণ জমাট রেখে পাল্টা-আক্রমণনির্ভর কৌশল পুরোপুরি কাজে লাগাল তারা। আক্রমণের বন্যা বইয়ে দেওয়া তুরস্ককে স্তব্ধ করে দিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল দলটি।

ভ্যাঙ্কুভারে 'ডি' গ্রুপের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে সকারুরা। প্রথমার্ধে নেস্টরি ইরানকুন্ডার লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান কনর মেটক্যাফ।

ম্যাচের পরিসংখ্যান থেকে ফুটে ওঠে, হাকান চালহানোগলু-আর্দা গুলারদের নিয়ে গড়া তুরস্ক দাপট দেখালেও নিজেদের কৌশলে সফল হয় অস্ট্রেলিয়া। গোলমুখে তুরস্কের ৩০টি শটের মধ্যে আটটি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি তারা। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া গোলমুখে নয়টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারে চারটি।

২০০২ সালে তৃতীয় হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে তুরস্ক। অনেকেই তাদের 'ডার্ক হর্স' ভাবছিল। বিশেষ নজর ছিল গুলার ও বদলি নামা কেনান ইলদিজের দিকে। কিন্তু সব আলো কেড়ে নিল নতুন চেহারার অস্ট্রেলিয়া।

সকারুদের শুরুর একাদশের ১০ জনেরই বিশ্বকাপ অভিষেক হয়। ২০২২ সালে শেষ ষোলোতে খেলা দলটির একমাত্র সদস্য হিসেবে টিকে আছেন কেবল সেন্টার-ব্যাক হ্যারি সুটার।

অভিষিক্তদের একজন হলেন ইরানকুন্ডা, যার মা-বাবা বুরুন্ডির নাগরিক। প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই তিনি পেলেন গোলের দেখা। জন আলোইসি, টিম কাহিল ও ক্রেইগ গুডউইনের পর মাত্র চতুর্থ অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে তিনি গড়লেন এই কীর্তি।

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে কমবয়সী গোলদাতার আগের রেকর্ডটি ছিল ব্রেট হোলম্যানের। ২০১০ সালে ঘানার বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। হোলম্যানকে প্রায় ছয় বছরের ব্যবধানে পেছনে ফেললেন মাত্র ২০ বছর ১২৫ দিন বয়সী ইরানকুন্ডা, যিনি তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেন।

ভীষণ সরব দর্শকদের সামনে ম্যাচের শুরুতে আধিপত্য ছিল তুরস্কের। বল দখলেও এগিয়ে ছিল তারা। তবে গুলার ও ফেরদি কাদিওগ্লুর দূরপাল্লার কিছু চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি দলটি।

ম্যাচের ২৭তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড গুলারের একটি শট সোজা চলে যায় গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের হাতে, যিনি আটটি সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন। এরপরই বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাক। মাত্র ১৭ সেকেন্ড পরই বল তুরস্কের জালে! বাঁ প্রান্ত দিয়ে মেরিহ ডেমিরালকে দারুণভাবে বোকা বানান ইরানকুন্ডা। এরপর গোলরক্ষক উরকান চাকিরকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।

দারুণভাবে জবাব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তুরস্ক। তিন মিনিট পর ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ে জোরাল শট নেন আব্দুলকেরিম বারদাকচি। শরীরের পুরোটা শূন্যে ভাসিয়ে বল পোস্টে ঠেলে দেন বিচ।

আক্রমণে ধার বাড়াতে বিরতির পর ইউভেন্তাসের ফরোয়ার্ড ইলদিজকে মাঠে নামায় তুরস্ক, যিনি পেশির চোট থেকে সেরে উঠেছেন। তবে উল্টো ৫৪তম মিনিটে আরও পিছিয়ে পড়তে বসেছিল দলটি। সুটারের একটি নিচু হেড কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন চাকির। এর তিন মিনিট পর গুলারের একটি বাঁকানো ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন বিচ।

অস্ট্রেলিয়ার ডি-বক্সের কাছে রীতিমতো ডেরা বাঁধে তুরস্ক। কোনো কাজ যদিও হয়নি। খেলার ধারার বিপরীতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে টনি পোপোভিচের দল। ৭৫তম মিনিটে মাঝমাঠে বলের দখল হারান ইসমাইল ইউকসেক। সেই সুযোগে চাকিরকে ফাঁকি দিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান মেটক্যাফ।

এই জয়ে গোল ব্যবধানে 'ডি' গ্রুপের শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমান ৩ পয়েন্ট এখন অস্ট্রেলিয়ার। অন্যদিকে, পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে।