গাজীপুরে গাড়িতে গুলি করে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ছিনতাই, ২৪ ঘণ্টা পর মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের এক ডিস্ট্রিবিউটরের ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর গতকাল শনিবার রাতে ডিস্ট্রিবিউটর কর্তৃপক্ষ মামলাটি করে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আজ রোববার দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম।

ওসি জানান, শ্রীপুরে বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর ‘ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড’-এর মালিক মাহমুদুল হাসান মামুন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

তিনি বলেন, মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটরের টাকা বহনকারী একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত।

এ সময় তারা পিস্তল বের করে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং গাড়িতে থাকা টাকার বস্তা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।

ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান শ্রীপুরে বিকাশের কার্যক্রম পরিচালনা করে। শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় এবং পোশাকশ্রমিকদের বেতন দেওয়ার চাপ থাকায় তারা নগদ টাকার সংকটে পড়েন। পরে বিকাশের নিয়ম অনুযায়ী নরসিংদী সদরের ডিস্ট্রিবিউটর হযরত আলী মুন্সীকে বিকাশের ব্যালেন্স দিয়ে নগদ টাকা সংগ্রহ করেন।

তিনি জানান, তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় মোট ৪ কোটি টাকা একটি প্রাইভেটকারে করে মাওনা চৌরাস্তার কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গাড়িটি কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সেটির গতিরোধ করে। পরে পিস্তল বের করে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা। এরপর গাড়ির পেছনের অংশে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রথমে প্রায় ৩ কোটি টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে গাড়িতে থাকা অবশিষ্ট বস্তার টাকা গণনা করে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এতে ছিনিয়ে নেওয়া দুই বস্তায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।