গ্রামে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজালে ‘মসজিদ-গোরস্থান থেকে বহিষ্কার’

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার বড় মাজগ্রামে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় মসজিদ কমিটি।

এ সংক্রান্ত ঘোষণার ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভ্যানে মাইক ব্যবহার করে ওই ঘোষণায় বলা হয়, ‘আজ থেকে মহল্লায় সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষেধ। কোনো ব্যক্তি ভুল করিয়া বা জেনে-শুনে যদি সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজান তাদেরকে মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হবে। আদেশক্রমে মাজগ্রাম বড় মসজিদের কমিটি।’

এমন ঘোষণার কারণ জানতে চাইলে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, ‘সবধরনের গানবাজনা নিষিদ্ধ নয়। শুধুমাত্র উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজানো বন্ধের বিষয়ে সবাই মিলে মসজিদে বসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত যারা মানবেন না তাদের বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদে প্রবেশ, মাদ্রাসায় পড়া ও স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না মর্মে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মসজিদটি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে জমারত আলীর বাড়ি। তার নাতি আলিফের (৭) সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে ঈদের পরের বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাড়িতে সাউন্ড বক্স বাজানো হচ্ছিল। এতে মসজিদের মুসল্লিদের সমস্যা হওয়ায় তারা গিয়ে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধ করে দেন।

এ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে পরদিন শুক্রবার আলোচনা সাপেক্ষে গ্রামে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় মসজিদ কমিটি।

ওইদিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জমারত আলীর স্ত্রী রুপা খাতুন বলেন, ‘শখের বসে ছেলেরা বক্স বাজিয়েছে। তবে নামাজের সময় বন্ধ ছিল। তারপরও শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক এসব নিয়ে ঝামেলা করছে।’

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি উভয়পক্ষকে ডেকে কথা বলেছি। এ নিয়ে আর ঝামেলা হবে না আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোতে অনেকে অসুস্থবোধ করেন। তাই এটাও যেন উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাজানো হয়, সেই ব্যাপারটি নিয়েও আমরা আলোচনা করব।’