খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে নগরের নিরালা আবাসিক এলাকার দীঘির পাড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—দক্ষিণ নিরালা ১০ নম্বর রোডের বাসিন্দা বাবুল গাজী ও উত্তর হরিণটানা এলাকার বাসিন্দা মো. সবুজ। পেশায় তারা দুজনই দর্জি।
হামলার ঘটনায় দায়ের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার বসু জানান, এজাহারে উল্লেখ থাকা চার আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার দুজন অজ্ঞাতনামা আসামি।
তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই প্রেসক্লাব থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়, যেখানে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়। তারা একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক ছিলেন। সোর্সের মাধ্যমে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেন, ঘটনার দিন ওই পথ দিয়ে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। আজ তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
এর আগে, রোববার রাতে প্রেসক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়—রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজান। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রসহ খুলনা প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকরা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন বলেন, বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কারো ইন্ধনে এ হামলা চালিয়েছে। এটি প্রেসক্লাবের ইতিহাসে ন্যক্কারজনক ঘটনা। জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকরা জানান, রোববার প্রেসক্লাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলাকালে একদল দুর্বৃত্ত সভাপতি প্রার্থী ও দৈনিক প্রবর্তনের সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় এখন টেলিভিশনের খুলনা প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি জানতে চাইলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।