‘ছেলে আমাকে নিশ্চিন্তে থাকতে বলত, অথচ সে-ই মানুষের হাতে খুন হলো’
‘আমার ছেলেকে আমি কোনো দিন কষ্ট দেইনি। আমার একটাই দুঃখ, আমার ছেলেকে কেন এত কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে? ছেলে আমাকে নিশ্চিন্তে থাকতে বলত। সে বলতো—তোমার কোনো দিন চাকরি-কাজ কিছুই করা লাগবে না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের বাবা জহুরুল ইসলাম।
নিখোঁজের ১৮ দিন পর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর লিমনের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার, স্বজন, বন্ধুসহ এলাকাবাসী।
আজ সোমবার বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের লাশবাহী গাড়িতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাতান (লালডোবা) গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডিরত লিমনের মরদেহ।
এর আগে সকালে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে করে তার মরদেহ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ও লিমনের বাবা-মা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হন ২৭ বছর বয়সী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে লিমনের দেহাংশ উদ্ধার করে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের সদস্যরা।
এর দুদিন পর ২৬ এপ্রিল ওই সেতুর কাছাকাছি ম্যানগ্রোভ এলাকায় উদ্ধার হয় বৃষ্টির মরদেহের খণ্ডিত অংশ।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, লিমনের পৈতৃক নিবাস মাদারগঞ্জের লালডোবা হলেও শৈশব কেটেছে গাজীপুরের মাওনা এলাকায়। শিক্ষাজীবনে লিমন ছিলেন মেধাবী। মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্নের পর ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
লিমনের বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কিছুই জানি না। যা জেনেছি, তা মিডিয়ার মাধ্যমেই। আমার চাওয়া, আমার দেশের বা ভিন্ন দেশের ছাত্ররা সবাই যেন বাইরে নিরাপত্তার সঙ্গে পড়াশোনা করতে পারে।’
দুই দেশের সরকারের কাছে বিচারের দাবি করে তিনি বলেন, ‘উভয় দেশের সরকার ও তদন্তকাজে নিয়োজিত সবার কর্মকাণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট। আমি চাই, যে পিশাচের হাতে এ ঘটনা ঘটেছে, তার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।’


