কিশোরগঞ্জে জাঁকজমকপূর্ণ নৌকাবাইচ, পুরস্কার সোনার হরিণ-রুপার ময়ূর

সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ

গত শনিবার কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজার সংলগ্ন সুরমা নদীতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। ঢাক-ঢোলের বাদ্য, মাঝিদের হই-হুল্লোড় আর ছন্দময় বৈঠার শব্দে মুখর হয়ে ওঠে নদীর বুক।

ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই জড়ো হন হাজারো মানুষ। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কিশোরগঞ্জের পাশাপাশি হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণা থেকেও ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।

ফলে ধনপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এ নৌকাবাইচ ঘিরে ওই এলাকার বাজার ও আশপাশ পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১২টি নৌকা অংশ নেয়। বাইচ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। ঢাক-ঢোলের তালে তালে মাঝিদের হাঁকডাক আর একসঙ্গে বৈঠা চালানোর দৃশ্যে প্রাণ ফিরে পায় সুরমার বুক।

তিন জেলার মানুষ এ এসে উপভোগ করেন এ লোকজ সংস্কৃতি। ছবি: তাফসিলুল আজিজ/ স্টার

হাওর অধ্যুষিত ইটনা উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক বহু পুরোনো। বর্ষায় বিস্তীর্ণ হাওর পানিতে তলিয়ে গেলে নৌকাই হয়ে ওঠে মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেই নৌকাকে ঘিরেই যুগ যুগ ধরে হাওরাঞ্চলে চলে আসছে নৌকাবাইচের ঐতিহ্য।

তবে আধুনিকতার প্রভাবে আগের মতো আর এ ধরনের আয়োজন না হওয়ায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার এ লোকজ সংস্কৃতি। নৌকাবাইচ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর।

প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয় ‘সোনার হরিণ’। দ্বিতীয় পুরস্কার ‘রুপার ময়ূর’ ছবি: তাফসিলুল আজিজ/ স্টার

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা শাপলা বয়েজ ক্লাব ইটনার ধনপুর ঘোষপাড়ার হয়ে বাইচে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। বিজয়ী দলের হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ‘সোনার হরিণ’। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে দেওয়া হয় ‘রুপার ময়ূর’ এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের হাতে তুলে দেওয়া হয় এলইডি টিভি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, ‘নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যের একটি অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। সুরমা নদীতে এমন আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ানোরও একটি মাধ্যম।’