শিবিরের ‘সাথী’ ছিলেন সালাহউদ্দিন আম্মার, বহিষ্কার হন গত বছরের সেপ্টেম্বরে
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা শিবিরের ‘সাথী’ ছিলেন।
আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
রাবি শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে তার বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ বুধবার যোগাযোগ করা হলে মেহেদী বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আম্মারের সাথী সদস্যপদ স্থগিত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।’
গত ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের ইস্যু করা একটি চিঠিতেও আম্মারের বহিষ্কারের তথ্য পাওয়া যায়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের অপব্যবহার এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শাখাটির মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের সাথী সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরের সভায় তার সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধে সম্পৃক্ততাসহ আম্মারের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
আম্মারের অনলাইন বা অফলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না জানাতে শিবিরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয় চিঠিতে। শুধু শিবিরের নির্বাচিত রাকসু পদধারীদের আম্মারের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির এক চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে পদ বাণিজ্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন তখনকার রাবি শিবির সভাপতি ও বর্তমান রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
রাত ৮টার দিকে সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি সেশনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান ডেইলি স্টারকে। তবে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে করা প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি।
পরে রাত ১০টার দিকে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন আম্মার।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত কোনোদিন আনীত অভিযোগগুলোর কোনোটার সাথেই সম্পৃক্ত না। এখন যেটা আমি করিনি সেটার অভিযোগ যদি আমার বিরুদ্ধে দেন তো আমি প্রমাণ কিভাবে দিব?’
রাবি শিবিরকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, ‘তাদের আল্লাহ মিথ্যাকে সত্য বানানোর অসীম ক্ষমতা দিয়েছে, তবে এটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।’