বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এই আদেশের ফলে শহরজুড়ে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আজ বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই দিনে দুই পক্ষের আলাদা রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার ঘোষণা দিয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্যদিকে, একই স্থানে ও একই সময়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক সমর্থক সেখানে উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সহিংসতা, হতাহত, সম্পত্তি বিনষ্ট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এই আদেশের আওতায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি লোকের যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ, স্লোগান দেওয়া, পিকেটিং, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করতে পারে এমন যেকোনো কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পুলিশ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করতে চায়। যেহেতু কয়েকটি রাজনৈতিক দল একই স্থানে সমবেত হওয়ার কথা জানিয়েছিল, তাই সেখানে বিশৃঙ্খল পরিবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছি। এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে দলটি তাদের নির্ধারিত উত্তর অঞ্চলের রোডম্যাপে পরিবর্তন এনে মৌলভীবাজারের রাজনগর ও কুলাউড়ার দুটি পদযাত্রা স্থগিত করে।
পরে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আজ বুধবার হবিগঞ্জে নতুন করে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। এনসিপির অভিযোগ, বিএনপির উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিঙ্গন বলেন, আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, এতে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।