রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ, তিনিই হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান।
দলের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক দশক ধরে বিএনপির জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবদানের পুরস্কার হিসেবেই তাকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।
একাধিক দলীয় সূত্র জানায়, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার এই মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে অবশ্যই দলের সংশ্লিষ্ট নথিতে সই করে বা লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে মনোনয়নে সম্মতি দিতে হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত শনিবার মির্জা ফখরুল এমন একটি লিখিত বিবৃতিতে সই করেছেন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। এর আগেই আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার দল আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারে।
দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দলের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা ও দলে রদবদল
মির্জা ফখরুল যদি রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হন, তবে তাকে মন্ত্রিসভা এবং বিএনপির মহাসচিব পদ ছাড়তে হবে। এর ফলে সরকার ও দলের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে সূত্রগুলো এটাও বলেছে যে প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো অনুমোদিত হয়নি এবং মির্জা ফখরুল শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হবেন কি না, তার ওপরই এই রদবদল নির্ভর করছে। চূড়ান্ত ঘোষণার আগে এই পরিকল্পনায় পরিবর্তনও আসতে পারে।
দলের নেতৃত্বের বিষয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দলের পরবর্তী কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কাউকে নির্বাচিত না করা পর্যন্ত রিজভী এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তা বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আনবে। তিনি দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে যখন খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন এবং তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত ছিলেন, তখন তিনি দলের হাল ধরে রেখেছিলেন।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালের ২০ মার্চ দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছিল।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষকতা পেশা থেকে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে নব্বইয়ের দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তিনি প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।