২৩ বছর কারাবন্দি বাবা, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির গতিরোধ করে মুক্তি চাইলেন ছেলে

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ির গতিরোধ করে হত্যা মামলায় কারাবন্দী নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তি চেয়েছেন তার ছেলে সরকার শাহনুর ইসলাম রনি।

২৩ বছর ধরে কারাবন্দী রয়েছেন নুরুল ইসলাম সরকার। ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে রনি আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে দাঁড়ান।

রনি বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারকে এ পর্যন্ত ৬৯ বার আদালতে নেওয়া হয়েছে। যেকোনো কারণে মামলাটি আজ অবধি শেষ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির পরে পট পরিবর্তন হয়েছে, গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এই যে লোকসমাগম দেখছেন, আমরা সবাই তারেক রহমানের কাছে এই বার্তাটি দিয়েছি যে, আপনার যে কর্মী আপনার জন্য ও দলের জন্য কাজ করেছে সে আজ ২৩ বছর কারাগারে বন্দি। আপনি বিষয়টা বিবেচনা করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের সুদৃষ্টি থাকলে মামলাটি আদালতে উঠবে। আমরা কেবল ন্যায়বিচার চাই। যদি আমার বাবার সাজা হয়ে যায়, হোক। কিন্তু, বিচারটা সম্পন্ন হোক।’

‘গাজীপুরের মানুষ বিশ্বাস করে নুরুল ইসলাম সরকার কোনো হত্যার সঙ্গে জড়িত না। মামলার শুনানি হলে নুরুল ইসলাম সরকার অচিরেই কারাগার থেকে বের হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি’, যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের গতিরোধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্রিজের ওপর যখন ওঠেন, তখন কোনো এক নেতার মুক্তির দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাস্তায় তারা নেমে আসেন। সেখানে পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি চলমান ছিল, এক সেকেন্ডও থেমে থাকেনি। সামনে সবাই চলে আসায় কেবল গাড়ির গতি একটু কম ছিল। ঘটনাস্থলে প্রধানমন্ত্রী কোনো বক্তব্য রাখেননি।’

‎উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে আসামি করা হয়। একই বছরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে এ মামলায় হাইকোর্ট ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

‎‎বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত নয়জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।