স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যাংকে দেওয়া হচ্ছে সরকারি ভাতা
সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় অফিসার ও আনসার সদস্য মিলিয়ে দুই জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন চিকিৎসা চলছে তাদের। ব্যাংকের শাখাটি নয় দিন বন্ধ থাকার পর ১২ মে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংকের ভেতর বয়স্ক ভাতা নিতে আসা মানুষের উপচেপড়া ভিড়। দোতলায় ব্যাংকের ভেতর থেকে বয়স্ক লোকের সারি রাস্তা পর্যন্ত চলে গেছে। সামাজিক দূরত্ব মানতে কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ কারও কোনো উদ্যোগ নেই।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল কাইয়ুম মাসুম জানান, ঈদের আগে বুধবার ব্যাংকের শেষ কর্মদিবস। এ কারণে ভিড় বেশি। তবে আমরা পুলিশের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব যতটুকু বজায় রাখা যায় সে চেষ্টা করেছি। তারপরও মানুষ ভিড় করছে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে লেনদেন করছি।
তিনি জানান, দুই জনের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় মৌলভীবাজারের আঞ্চলিক শাখা কমলগঞ্জ শাখাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছিল। উপজেলার একমাত্র ট্রেজারি ব্যাংক শাখা হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, সরকারি লেনদেন, মুক্তিযোদ্ধা, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা ভাতা তুলতে পারছিলেন না। তাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় ৯ দিনের লকডাউন শেষে ১২ মে শাখা খোলার সিদ্ধান্ত হয়।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ব্যাংকের শাখাটি বন্ধ থাকায় বেশ দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই শাখাটি খোলা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।