‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’—বাস্তবে কি তা প্রতিষ্ঠা করা যাবে?
লেখার শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য ব্যবহার করেছি, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’। কথাটা অত্যন্ত সুমধুর। কেননা, এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্দেশনা দেশের অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। দেশের অধিকাংশ প্রত্যন্ত এলাকায় জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রথম সংযোগস্থল পুলিশ। সেখানে যদি জনগণের অভিজ্ঞতা সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তাহলে সরকারের প্রতি তাদের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যায়।
অথচ, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটিই অতীত সরকারগুলোর হাতে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থে সবচেয়ে বেশি অপব্যবহৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই পুলিশকে রাজনৈতিক ব্যবহার-মুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে পারেন, তাহলে আইনি নিপীড়ন ও দুর্নীতির শিকার দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন মানুষের জীবনে বিরাট পরিবর্তন আসবে। সেই পরিবর্তন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থাকেও নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বদলে দেবে এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আরও কার্যকর ও জনমুখী হয়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়াশোনার অবস্থা নিয়েও কথা বলেছেন এবং আমরা সেটা নিয়েও আলোচনা করব।
এসব বিষয়ে আলোচনার আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি ঘটনা বলতে চাই, যেটা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে মতবিনিময়ের জন্য সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সদস্যদের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। বৈঠকে তিনি ছিলেন আন্তরিক ও বিনয়ী। তার ব্যক্তিগত একটি গল্প দিয়ে সেদিনের আলোচনা শুরু করায় আমরাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
তারেক রহমান বলেন, তিনি পবিত্র রমজান মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রাত পর্যন্ত কাজ করায় সহকর্মীদের নিয়ে অফিসেই ইফতার করতেন। তিনি দেখলেন, পর্যটন হোটেল থেকে আনা ইফতারের খরচ পড়ত জনপ্রতি ৯০০ টাকা। তিনি ইফতারের বিভিন্ন সামগ্রীর খোঁজ নেন এবং মাত্র ১৫০ টাকায় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর ইফতারের ব্যবস্থা করেন। এরপর থেকে সেটিই ছিল তার অফিসে ইফতারের জনপ্রতি খরচ।
এরপর তিনি আমাদের চমকে দিয়ে বলেন, আমাদের জন্য দুপুরে খাবারের যে আয়োজন করা হয়েছে, সেখানেও জনপ্রতি খরচ হবে ১৫০ টাকা। খাবারে ছিল সাদা ভাত, সবজি, লাউ-চিংড়ি (ছোট চিংড়ি) ও ডাল। একদম গরম-গরম ও টাটকা খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। খরচ কম হলেও সেদিনের মধ্যাহ্নভোজ ছিল হালকা, স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু।
ইফতার ও দুপুরের খাবারে সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প বের করতে প্রধানমন্ত্রী যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, একইভাবে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর পদ্ধতি খুঁজতে তিনি অনুপ্রাণিত হবেন বলে আশা করি।
সচিবালয়ে ঢোকার সময় প্রথমেই যা চোখে পড়ে সেটা থেকে অনেকের মনে হতে পারে, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ কেন্দ্রটি যেন বিলাসবহুল এসইউভি ও দামী গাড়ির পার্কিং লটে পরিণত হয়েছে। দু-তিন সারিতে রাখা প্রতিটি গাড়ির দাম কোটি টাকার বেশি। এত গাড়ির ভিড়ে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে হেঁটে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। শুধু কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণই নয়, সরকারি কোষাগার শুষে নিয়ে প্রতিদিন মেটাতে হচ্ছে এসব দানব গাড়ির জ্বালানি চাহিদাও। জ্বালানির ব্যয় ইতোমধ্যেই অনেক বেশি এবং আগামীতে নিশ্চই আরও বাড়বে।
এমনকি জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও এই ব্যয়বহুল জ্বালানিখেকো গাড়ি দেওয়া হচ্ছে। যাদের সেবা দিতে এই কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে, সেই দরিদ্র জনগণের বাস্তবতার সঙ্গে তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো ভয়াবহ বৈসাদৃশ্য তৈরি করে।
এই জায়গাতে শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর নজর দেওয়া উচিত। তার ‘সরল জীবনযাপন’ দর্শন প্রয়োগের মাধ্যমে এখন থেকেই প্রশাসনিক ব্যয় কমানো শুরু করা যেতে পারে। শুধু এসব গাড়ির দাম এবং জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সম্পর্কে জানলেই প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারবেন যে আমরা কী বলতে চাইছি।
ফিরি তার বক্তব্যে। এখানে আমরা দুটি বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। একটি পুলিশ এবং অপরটি আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
পুলিশ সপ্তাহে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বার্তা স্পষ্ট, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কঠোরভাবে আইন মেনে চলতে হবে। জনগণ যেন যেকোনো বিপদে থানাকে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এরপর গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাংকিং এত নিচে থাকার প্রধান কারণ হলো ‘রাজনৈতিক প্রভাবে শিক্ষক নিয়োগ, একাডেমিক পারফরম্যান্সের প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্বের অভাব ও গবেষণার ঘাটতি।’
জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দুটি সম্পর্কে তার এই মন্তব্যগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার বক্তব্য আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। মুক্ত গণমাধ্যম হিসেবে এসব ক্ষেত্রে আমাদের পেশাগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করছি।
পুলিশের প্রসঙ্গ দিয়েই শুরু করা যাক। দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’, তখন সেটা যেমন অত্যন্ত প্রশংসনীয়, তেমনি খানিকটা অবিশ্বাস্যও শোনায়। তিনি যদি সত্যিকার অর্থে সেটাই বোঝাতে চান, তাহলে পুলিশকে প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর স্বাধীনতা দিতে হবে।
বাস্তবতা হলো, সরকার ও ক্ষমতাসীন দল চায় বলেই বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয় পুলিশ। কোনো জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা যদি ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার পক্ষপাতমূলক নির্দেশ না মানতে চান, তাহলেই দেখা যায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। আর ওই কর্মকর্তা যদি অনড় থাকেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতেই দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার, আসলে অপব্যবহারের মূল কারণ সরকার ও ক্ষমতাসীন দল নিজেরাই। এটি বন্ধ করতে হলে শুরুটা করতে হবে নিজের আঙ্গিনা থেকেই। কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য যখন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী, ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা পারিবারিক শত্রুকে হয়রানি করার জন্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক নির্দেশ দেন, তখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা কোন সাহসে স্বাধীনভাবে কাজ করবেন? একজন পুলিশ কর্মকর্তা তখনই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, যখন নিজেকে রক্ষার জন্য তার কাছে একটি সরকারি প্রক্রিয়া থাকবে। সেটা থাকলে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নিয়ম মেনে চলার পরামর্শই দেবেন।
যদি প্রধানমন্ত্রী সত্যিই প্রতিষ্ঠা করতে চান যে ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’, তাহলে তারই দায়িত্ব হবে দুটি ‘আচরণবিধি’ তৈরি করা। একটি হবে পুলিশের জন্য, অপরটি দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য। একটিতে থাকবে, পুলিশ কীভাবে সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের সঙ্গে আচরণ করবে এবং অপরটিতে থাকবে, দলীয় নেতারা পুলিশের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবে।
এটাও মনে রাখতে হবে, পুলিশের মধ্যেও, বিশেষ করে অবসরের কাছাকাছি থাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীনদের খুশি করতে বাহিনীকে ব্যবহার করেন। কারণ, তারা শেষ মুহূর্তে পদোন্নতি, সুযোগ-সুবিধা, জাতিসংঘ মিশন ও আকর্ষণীয় পদায়নের সুযোগ হিসেবেই এটাকে দেখেন।
এবার আসি আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে। রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির কারণেই আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লজ্জাজনক নিম্ন র্যাংকিং—এ কথা বলে প্রধানমন্ত্রী সমস্যার গোড়াতেই আঘাত করেছেন।
এর সঙ্গে আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, সরকারি চাপ, দলীয়করণ ও তোষামোদি সংস্কৃতির মধ্যেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষক নিজেদের জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রেখেছেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ও একাডেমিক অঙ্গনে সম্মান অর্জন করেছেন। তাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাগত উৎকর্ষ ধ্বংসের জন্য ব্যাপকভাবে দায়ী। তবে এখানে মূল সমস্যা হলো উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষকরা গোলাপি, সাদা ও নীল প্যানেল গঠন করেছেন। এসব প্যানেল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের পছন্দের দল ক্ষমতায় এলে উপাচার্য, হল প্রভোস্ট, হাউস টিউটর এমনকি অনেক সময় ডিন নিয়োগ ও অন্যান্য কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণ করেছে।
রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও রঙ বদলায়। সেইসঙ্গে বদলে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া, একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষকদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা। এর ফলেই বছরের পর বছর ধরে আমাদের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মর্যাদা, সম্মান ও গুণগত মান হারিয়েছে।
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার দুটি মৌলিক ক্ষেত্র হলো সুশাসন ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা। এই দুটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য দুটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছি।
পুলিশকে রাজনীতিমুক্ত করতে হলে দুটি কঠিন লড়াই জিততে হবে। প্রথমত, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বোঝাতে হবে যে পুলিশ তাদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীর আরেকটি অংশ নয়। দ্বিতীয়ত, পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা বদলাতে হবে এবং পেশাগত সীমার অনেক বাইরে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের সেবা করার অভ্যস্ততা বাদ দিতে হবে। এই চর্চা এত দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে যে, তারা হয়তো স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুভূতিটাই ভুলে গেছেন।
গত ১১ মে দ্য ডেইলি স্টারের বাংলা ও ইংরেজি অনলাইন এবং ১২ মে ছাপা পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এস আলম ডিজিএফআইকে ব্যবহার করে এসআইবিএলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। কাজেই পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পেশাদারিত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করতে হবে। সেটা হলো, তারা কীভাবে নির্বাচিত সরকারকে সেবা দেবে এবং কীভাবে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতাদের ‘দলীয়’ স্বার্থে কাজ করা থেকে বিরত থাকবে, সেটা স্পষ্ট করতে হবে। এই ‘স্পষ্টতা’ অত্যন্ত জরুরি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার পূর্বশর্ত।
আমাদের নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রয়োজন নেই। বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশের কাছ থেকেই আমরা এটি শিখতে পারি। আমরা যে ‘স্পষ্টতা’র ওপর জোর দিয়েছি, সেটা ছাড়া পুলিশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আকাঙ্ক্ষা কখনোই বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হবে না।
আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং সেখানে একাডেমিক স্বাধীনতা ও উৎকর্ষ ফিরিয়ে আনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমরা যদি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সুশাসন ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক অগ্রগতির অংশ হতে চাই, তাহলে এটা করতেই হবে। এর শুরুটা হোক মেধা, নৈতিক গুণাবলি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততার ভিত্তিতে উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে। তাকে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে এবং রাজনৈতিক ভিত্তির বদলে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সহায়তা করতে হবে। শিক্ষকদের বোঝাতে হবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে দলীয় রাজনীতি করা থেকে বিরত থাকতে। নাগরিক হিসেবে তারা রাজনীতি করতেই পারেন, কিন্তু শিক্ষক হিসেবে নয়। শিক্ষার্থীদেরও হয়তো বোঝানো যেতে পারে যে গণতন্ত্র ও দেশের অগ্রগতির জন্য রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ক্যাম্পাসভিত্তিক দলীয় রাজনীতির বহু ক্ষতিকর দিক রয়েছে, যার শিকার আমরা অতীতে হয়েছি এবং প্রত্যক্ষও করেছি।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে। আমরা কিছু সড়ক, সেতু, কারখানা ও ভবনও বানিয়েছি। কিন্তু মেধা, নৈতিকতা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি জনপ্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলতে পারিনি। বরং যেগুলো ছিল, সেগুলোকেও ধ্বংস করেছি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমাদের নতুন পথে যাত্রা শুরু করাতে পারে। কিন্তু সত্যিই সেটা হবে তো?
মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার