হৃদয়ের ৩৫০ দেশের ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ারও প্রতীক: তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অপরাজিত ৩৫০ রান করে প্রথম শ্রেণির তথা স্বীকৃত ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়লেন তাওহিদ রেকর্ড। যার কীর্তি ভেঙে তিনি অনন্য উচ্চতায় উঠলেন, সেই তামিম ইকবালের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা মিলল তার। বিসিবি সভাপতির মতে, হৃদয়ের অসাধারণ ইনিংসটি ব্যক্তিগত অর্জনের সীমারেখা ছাপিয়ে দেশের ক্রিকেটের অগ্রগতির প্রতীক।

বুধবার পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের শেষদিনে বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়ে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে রেকর্ডময় ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকান হৃদয়। সেখানেই থেমে যাননি এই ডানহাতি ব্যাটার। ৪৮১ বলে ২৭ চার ও ১০ ছক্কায় ঠিক ৩৫০ রান স্পর্শ করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণিতে সাড়ে তিনশ রানের ইনিংস খেললেন হৃদয়। তিনি এই মাইলফলকে পা রাখার পরপরই ড্র মেনে নেয় দুই দল।

তার আগে এতদিন বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম শ্রেণি তথা স্বীকৃত ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক ছিলেন তামিম। সাবেক এই বাঁহাতি ওপেনার ২০২০ সালে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিএলের ম্যাচে পূর্বাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন। খেলেছিলেন ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস। ৪২৬ বল মোকবিলায় তার ব্যাট এসেছিল ৪২ চার ও তিন ছক্কা।

হৃদয় ইতিহাস গড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার প্রশংসায় তামিম লিখেছেন, ‘যেকোনো জায়গায়, যেকোনো পর্যায়ে, যেকোনো প্রেক্ষাপটে ৩৫০ রানের ইনিংস খেলতে পারা দারুণ ব্যাপার। সেই ইনিংস যদি হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়, তাহলে সেটিকে বলতে হয় অসাধারণ।’

নিজের রেকর্ড ভাঙা পড়লেও খুশি সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার, ‘বলা হয়, রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্যই। আমি খুবই খুশি যে আমার রেকর্ডটি ভেঙে গেছে।’

হৃদয়ের এই অসামান্য অর্জনকে বর্তমানে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব থাকা তামিম দেখছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির বার্তা হিসেবে, ‘ইতিহাস গড়ার জন্য অভিনন্দন তাওহিদ হৃদয়। দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩৫০ স্পর্শ করতে পারা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দেশের ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ারও একটি প্রতীক।’

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানো বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হৃদয়। আর তিনিই প্রথম ব্যাটার, যিনি এই কীর্তি গড়লেন বিদেশের মাটিতে।

২০০৭ সালে প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন রকিবুল হাসান। ফতুল্লায় জাতীয় লিগের ম্যাচে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৬০৯ বলে ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।