চার শূন্যের পর লিটনের সেঞ্চুরির হাসি

একুশ তাপাদার
একুশ তাপাদার

অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সাফল্য পেলেও ব্যাটার লিটন দাসের সময়টা ছিলো দুঃস্বপ্নের মতো। তিন ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে তিনবারই ফেরেন খালি হাতে। এরপর এশিয়ান গেমস টি-টোয়েন্টিতে গিয়েও রান পাননি, সেখানেও একবার আউট হন শূন্য রানে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ ইনিংসে চার শূন্যের পর প্রবল চাপ উড়িয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি।

আবুধাবি টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন খেললেন ১০২ রানের চোখধাঁধানো ইনিংস। সেই সঙ্গে কিপিং গ্লাভস হাতেও উইকেটের পেছনে তার দারুণ উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর রানখরায় থাকা লিটন গণমাধ্যমের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে হন জেরবার। সাংবাদিকদের সঙ্গে বদানুবাদে লিপ্ত হওয়ার পর চরম সমালোচনা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিক্ত হাওয়া টের পেয়েছেন এই কদিন।

Litton Das batted aggressively, Afghanistan vs Bangladesh, Only Test, Abu Dhabi, 4th day, October 12, 2026এমন অবস্থায় আবুধাবিতে রানের খাতা খুলেই তার যে স্বস্তির হাসি, তা নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়। তবে রানের খাতা খুলেই অবশ্য থেমে যাননি। প্রথম ইনিংসে কার্যকর ফিফটি করে তবেই আউট হন। দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন করলেন আসল কাজ। দল যে খুব চাপে ছিলো তা নয়, তবে ছয় নম্বরে নামা ব্যাটারদের দায়িত্ব তো কম নয়! প্রতিপক্ষের নাগাল থেকে লক্ষ্যটা এমন এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া চাই, যেখানে বাংলাদেশ থাকবে একদম নিরাপদ।

সেই ভার নিজের সাবলীল ব্যাটে সামলে এগিয়েছেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৪৯ রানের জুটিতে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। ১১৭ বলে ১০৪ রানের ইনিংসটি ছিলো একদমই ওয়ানডে মেজাজে। প্রতিপক্ষকে কিছু সুযোগ দিয়েছেন বটে, তবে চাবুকের মতো লেট কাট আর মোহনীয় স্ট্রেট ড্রাইভে আফগানদের মনোবল ভেঙে দিয়ে ছুটিয়েছেন রানের ঘোড়া।

এই টেস্টেই বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। টেস্টে ২১ ফিফটির সঙ্গে সাতটি সেঞ্চুরি—লিটন যে মানের ব্যাটার, তার শতকে রূপান্তর হার নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। ফিফটি পেরিয়ে থেমে যাওয়া অনেকগুলো ইনিংস যদি তিন অঙ্কে নিতে পারতেন, তাহলে তার পরিসংখ্যান দেখাতো আরও উজ্জ্বল।

সেই আলাপ হয়তো থেকেই যাবে। তবে আপাতত শূন্যের গেরো পেরিয়ে লিটনের এভাবে রানে ফেরা বাংলাদেশ দলের জন্য দারুণ এক স্বস্তির। কদিন পর ত্রিদেশীয় (আরেক দল জিম্বাবুয়ে) ওয়ানডে সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি; এমন ফুরফুরে মেজাজের অধিনায়ককেই তো সেখানে দেখতে চাইবে বাংলাদেশ!