অতলের প্রতিরোধে আটকে বাংলাদেশ, লাঞ্চের আগে কিছুটা স্বস্তি

স্পোর্টস ডেস্ক

জয়ের জন্য শেষ দিনে চাই সাত উইকেট। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের বেশ ভালোই ভুগিয়েছেন আফগানিস্তানের ব্যাটাররা। বিশেষ করে সেদিকউল্লাহ অতল এক প্রান্ত আগলে রেখে ক্রমেই বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছেন। তবে লাঞ্চের ঠিক আগে ইকরাম আলী খিলকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছেন ইবাদত হোসেন। যদিও পুরোপুরি স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যেতে পারেনি টাইগাররা।

আবুধাবিতে সিরিজের একমাত্র টেস্টের পঞ্চম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ২০৩ রান করেছে আফগানিস্তান। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে এখনও ২৭৬ রান প্রয়োজন সফরকারীদের। ৬৬ রানে অপরাজিত আছেন অতল। তার সঙ্গে ক্রিজে থাকা ইসমাত আলম এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি।

আগের দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে মঙ্গলবার শেষ দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি ও অতল। তবে দিনের শুরুতেই চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় শহীদিকে।

দিনের তৃতীয় ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ফিল্ডারের থ্রো পায়ের প্যাডে লাগে শহীদির। আগে থেকেই পায়ের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। নতুন করে আঘাত পাওয়ার পর মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। কিন্তু ব্যাটিং চালিয়ে যেতে না পারায় ২০ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন আফগান অধিনায়ক।

এরপর অতলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ইকরাম আলী খিল। বাংলাদেশের বোলারদের বেশ ধৈর্যের পরীক্ষাই নেন দুজন। এক প্রান্তে অতল যেমন উইকেট আগলে রাখেন, অন্য প্রান্তে তাকে ভালোই সঙ্গ দেন ইকরাম। এর মধ্যে ১৬৬ বলে ফিফটি তুলে নেন অতল।

পঞ্চম দিনের উইকেট থেকেও খুব একটা সুবিধা আদায় করতে পারছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে স্পিনাররা ছিলেন উইকেটশূন্য। নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম রান আটকে রাখলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারছিলেন না। ফলে সময় গড়ানোর সঙ্গে বাংলাদেশের অপেক্ষাও দীর্ঘ হতে থাকে।

অবশেষে লাঞ্চের আগে সেই অপেক্ষা ঘোচান ইবাদত। তার বলে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। তাতেই ভাঙে অতল ও ইকরামের ৬৬ রানের জুটি। দ্বিতীয় ইনিংসে এটি ইবাদতের তৃতীয় শিকার। এর আগে চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলেও রহমত শাহকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছিলেন এই পেসার।

তবে বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তা এখনও অতল। ৬৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকা এই ওপেনার আফগানিস্তানের ইনিংসকে এক প্রান্ত থেকে টেনে নিচ্ছেন। তাকে দ্রুত ফেরাতে না পারলে ম্যাচের শেষ ভাগে আরও কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতে পারে বাংলাদেশের বোলারদের।