শেষ ঘণ্টার নাটকীয়তায় আবুধাবি টেস্ট জিততে পারল না বাংলাদেশ
তাইজুল ইসলামের বলটা মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে দিলেন কাইস আহমেদ, এরপরই তার মহাতৃপ্তির উল্লাস। আরেক দিকে মলিন মুখে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। না আফগানিস্তান জেতেনি, তবে চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তায় চরম ব্যাকফুটে থেকে মহানাটকীয়তায় আবুধাবি টেস্ট ড্র করে ফেলল তারা। শেষ ঘণ্টায় বাংলাদেশের ফিল্ডারদের অবিশ্বাস্য সব ব্যর্থতা আর আফগান টেলএন্ডারদের দৃঢ়তায় টেস্ট ক্রিকেট দেখল রোমাঞ্চকর সমাপ্তি।
আবুধাবিতে মঙ্গলবার একমাত্র টেস্টে আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করে নিশ্চিতভাবে হতাশায় পুড়ছে বাংলাদেশ। ৪৭৯ রানের বিশ্বরেকর্ডের চ্যালেঞ্জে না ছুটে সাড়ে চার সেশন টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ ছিল তাদের। ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ড্র করে ফেলল রহমত শাহর দল।
সেদিকুল্লাহ অতলের স্মরণীয় সেঞ্চুরিতে শেষ সেশনে খেলা আসার পর ড্রয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয় আফগানদের। তবে দিনের খেলা শেষের এক ঘণ্টারও বেশি আগে সেদিকুল্লাহকে আউট করে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বাড়িয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। কিন্তু ভুলের স্রোতে সেটা হাতছাড়া হয়েছে পরে।
সেদিকুল্লাহর পাশাপাশি আফগানদের নায়ক ইয়ামিন আহমদজাই আর কাইস। ৮৫ বল সামলে ১৯ করেন ইয়ামিন। দারুণ নিবেদনে ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন কাইস। তবে এই দুজনকেই সহজে আউট করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ।
নাঈম হাসানের বিস্ময়কর ব্যর্থতায় পরপর দুই বলে রানআউট থেকে বাঁচেন ইয়ামিন আর কাইস দুজনেই। খানিক পর ইয়ামিনের স্টাম্পে বল লেগেও পড়েনি বেলস। হাসান মাহমুদ পরে ফেলেন কাইসের ক্যাচ। শেষ ঘণ্টায় একের পর এক সুযোগ হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটা হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।
৬ উইকেটে ২৬৫ রান নিয়ে শেষ সেশন শুরু করেছিল আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ সেশনের শুরুটা করেন সতর্ক পথে। ইয়ামিনকে এক পাশে রেখে সময় পার করছিলেন তিনি। ৭০ রানে তাইজুলের বলে তাকে আউট করার সুযোগ হারান লিটন দাস। এই টেস্টে বিশ্বরেকর্ড গড়ে দুরন্ত খেলা লিটনের ওই একমাত্র ভুল।
জীবন পাওয়া সেদিকুল্লাহ সেঞ্চুরি তুলে টিকেছেন আরও কিছুক্ষণ। তবে তাকে যথেষ্ট সময় থাকতেই ফেরাতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে ফরওয়ার্ড শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ৩৩২ বলে ১১১ রানের লড়াই থামান তিনি।তখন মনে হচ্ছিল শেষ তিন উইকেট স্রেফ সময়ের ব্যাপার। সেটাই কঠিন করে দিতে থাকেন ইয়ামিন আর কাইস। ক্রিজে এসে কাইস শুরুতে ছটফট করলেও ইয়ামিন ছিলেন স্থির। দুজনেই অবশ্য সুযোগ দেন, সেসব রাখতে না পারার আক্ষেপ থাকবে।
ইয়ামিন যখন আউট হন টেস্টের তখন অন্তিম সময়। এরপরও অবশ্য আরও পাঁচ ওভার খেলা হয়েছে, হতে পারত আরেকটু বেশি। পেশির টানের ভান করে কৌশলগতভাবে কিছু সময় ক্ষেপণ করেন কাইস। তাইজুল-মিরাজ মিলে ফিল্ডার দিয়ে ঘিরেও তাকে টলাতে পারেননি। এমনকি দশ নম্বর ব্যাটার জিয়াউর রহমানও খেলে ফেলেন মূল্যবান ১২ বল।
আবুধাবির উইকেট পাঁচদিনই ছিল মোটের ওপর ব্যাট করার জন্য ভালো। তাতে প্রথম ইনিংসে প্রত্যাশার চেয়ে কম রান করা বাংলাদেশ ঠিকই বড় লিড নিয়ে নেয়। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরিতে প্রতিপক্ষকে দিতে পারে বিশাল লক্ষ্য। কিন্তু আরেকটু আগে ইনিংস ঘোষণা করা যেত কিনা এই প্রশ্নও এখন উঠবে।
