অনবদ্য সেঞ্চুরিতে বেথেলের লড়াই সত্ত্বেও চালকের আসনে অস্ট্রেলিয়া
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে লড়াই করছে ইংল্যান্ড। তরুণ জ্যাকব বেথেলের অনবদ্য অভিষেক সেঞ্চুরিতে বুধবার চতুর্থ দিন শেষে সফরকারীরা দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩০২ রান তুলেছে। তাদের লিড এখন ১১৯ রানের। তিনে নেমে ২৩২ বলে ১৪২ রানে অপরাজিত থাকা বেথেলই এখন ইংলিশদের শেষ ভরসা।
তবে হাতে মাত্র ২ উইকেট থাকায় এই লিড নিরাপদ নয়। সিরিজের বর্তমান স্কোরলাইন ৩-১ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে অ্যাশেজ নিজেদের করে রেখেছে। শেষ দিনে দ্রুত বাকি ২ উইকেট তুলে নিতে পারলে জয়ের জন্য লক্ষ্যটা তাদের খুব নাগালেই থাকবে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড চাইবে এই লিডকে আরও দূরে টেনে নিতে, যাতে মেলবোর্ন টেস্টের পর সিডনিতেও জিতে সিরিজের ফলাফল সম্মানজনক করা যায়।
২২ বছর বয়সী বেথেল এদিন দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডের বিপর্যয় রুখে দেন। ওপেনার জ্যাক ক্রলি (১) ও অভিজ্ঞ জো রুট দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়েছিল দল। প্রথম ইনিংসে ১৬০ রান করা রুট মাত্র ৬ রানেই সাজঘরে ফেরেন। মাঝে আরেক ওপেনার বেন ডাকেট ব্যক্তিগত ৩৮ রানে জীবন পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। আউট হয়ে যান ৪২ রান করে।
১১৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর চাপ সামলে ১৬২ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন বেথেল। মজার ব্যাপার হলো, এটি শুধু তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিই নয়, বরং স্বীকৃত পর্যায়ের লাল বলের ক্রিকেটেই এটি তার প্রথম শতরান। এর আগে প্রথম শ্রেণিতে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ৯৬।
বেথেল এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিল থামেনি। এক পর্যায়ে, ইংলিশরা ৩ উইকেটে ২১৯ রানে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ইনিংসের ৫২তম ওভারে ঘটে ছন্দপতন। হ্যারি ব্রুক (৪২) ও উইল জ্যাকসকে (০) তিন বলের ব্যবধানে ফিরিয়ে দেন পেসার থেকে স্পিনারে রূপান্তরিত হওয়া বাউ ওয়েবস্টার। ভুল বোঝাবুঝিতে জেমি স্মিথ (২৬) রান আউট হওয়ার পর চোট নিয়ে মাঠে নামা অধিনায়ক বেন স্টোকসও থিতু হতে পারেননি। স্রেফ ১ রান করেই তিনি ওয়েবস্টারের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন।
ব্রাইডন কার্স ক্রিজে গিয়ে ওয়ানডের ঢঙে ব্যাট করলেও টিকতে পারেননি। ১৬ রান করে স্কট বোল্যান্ডের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। দিন শেষে বেথেলের সঙ্গী ম্যাথু পটস এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি। ক্রিজে ব্যাট হাতে আসার অপেক্ষায় আর আছেন কেবল জশ টাং।
এর আগে ওপেনার ট্রাভিস হেডের ১৬৩ ও অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের ১৩৮ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৫৬৭ রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিকরা। আগের দিনের ৭ উইকেটে ৫১৮ রান নিয়ে নেমে আরও ৪৯ রান যোগ করে তারা। স্মিথ এদিন মাত্র ৯ রান যোগ করে থামেন। ক্যারিয়ারের ১৩তম অ্যাশেজ সেঞ্চুরি করে তিনি এখন কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানের (১৯ সেঞ্চুরি) ঠিক পরেই অবস্থান করছেন।
ওয়েবস্টার ৭১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ইংল্যান্ডের পক্ষে টাং ৯৭ রানে ও কার্স ১৩০ রানে সমান তিনটি উইকেট নেন। ১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা ইংল্যান্ড শেষদিনে লড়াই কোথায় নিয়ে যায় সেটাই এখন দেখার।