শেষ টেস্টও জিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ অস্ট্রেলিয়ার

By স্পোর্টস ডেস্ক
8 January 2026, 03:57 AM

কিছুটা শঙ্কার মুহূর্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো বিপদে পড়তে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। সিডনিতে পঞ্চম ও শেষ অ্যাশেজ টেস্টে ইংল্যান্ডকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে স্বাগতিকরা নিশ্চিত করেছে ম্যাচ ও সিরিজ জয়। ১৬০ রানের লক্ষ্য টপকে শেষ দিনের চা-বিরতির আগেই জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া, ফলে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ নিজেদের করে নেয় দলটি।

শেষ দিনে ইংল্যান্ডের হয়ে লড়াইয়ের মুখ হয়ে ওঠেন পেসার জশ টাং। ৪২ রানে তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে কিছুটা হলেও চাপ তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত অ্যালেক্স কেয়ারির ব্যাটেই আসে স্বস্তির বার্তা, মিড-আফটারনুনে কাভার দিয়ে মারা একটি চারেই জয়ের সিলমোহর পড়ে। কেয়ারি ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন, আর ক্যামেরন গ্রিন ২২ রানে নটআউট থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

হারলেও এই টেস্টে লড়াইটা জমিয়ে রাখার কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের প্রাপ্য। সিডনির ঐতিহ্যবাহী মাঠে সিরিজের শেষ ম্যাচে তারা সহজে ভেঙে পড়েনি। তবে চোটের কারণে অধিনায়ক বেন স্টোকস বোলিং করতে না পারায় ১৬০ রান রক্ষা করা যে কঠিন হবে, তা শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল, বিশেষ করে এমন একটি উইকেটে, যেখানে শেষ দিনের ব্যাটিং তুলনামূলক সহজ ছিল।

স্টোকস স্লিপে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেও অস্ট্রেলিয়ার ওপেনাররা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করে লক্ষ্য দ্রুতই ১০০ রানের নিচে নামিয়ে আনেন। তবে সিরিজে তিনটি সেঞ্চুরি করা ট্রাভিস হেড ২৯ রানে জশ টাংয়ের বলে মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দিলে কিছুটা আশার আলো দেখে ইংল্যান্ড। এরপর জেক ওয়েদারাল্ডও ৩৪ রানে টাংয়ের শিকার হন। মধ্যাহ্নভোজে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য তখনও বাকি ছিল ৮৯ রান।

এই সিডনি মাঠেই ২০১০–১১ অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টে ইনিংস ও ৮৩ রানে জিতেছিল ইংল্যান্ড, ডাউন আন্ডারে সেটিই ছিল তাদের শেষ অ্যাশেজ সিরিজ জয়। সেই ম্যাচে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল উসমান খাওয়াজার। অবসরের আগে শেষ ইনিংস খেলতে নামলেও এদিন স্মরণীয় কিছু করতে পারেননি তিনি। মধ্যাহ্নভোজের পর অস্থায়ী অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ১২ রানে আউট হলে খাওয়াজাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় ইংল্যান্ড শিবির, কিন্তু জশ টাংয়ের আগুনে বোলিংয়ে সাত বল খেলে মাত্র ৬ রানেই বিদায় নেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

এর আগে মার্নাস লাবুশেন ২০ রানে জীবন পেয়েছিলেন, ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে বেটেলের দৃষ্টিনন্দন লাফেও ক্যাচ তালুবন্দি হয়নি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। ৩৭ রানে রানআউট হয়ে ফেরেন লাবুশেন, তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৯ রান। কেয়ারি ও গ্রিনের মাঝেও একবার ভুল বোঝাবুঝিতে বিপদ তৈরি হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন দুজন।

এর আগে শেষ দিনে ইংল্যান্ড ৩০২/৮ স্কোর নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে। মিচেল স্টার্ক দ্রুতই বড় ধাক্কা দেন, ১৫৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা বেটেলকে কিপারের হাতে ক্যাচ করান তিনি। বেটেলের এই অভিষেক সেঞ্চুরিই মূলত ইংল্যান্ডকে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে সাহায্য করে এবং অস্ট্রেলিয়াকে আবার ব্যাট করতে বাধ্য করে। পরে স্টার্ক জশ টাংকে ৬ রানে আউট করে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন ৩৪২ রানে। ম্যাচে ৩/৭২ নেওয়া এই বাঁহাতি পেসার পুরো সিরিজে শিকার করেন ৩১ উইকেট।