হেড-স্মিথের জোড়া সেঞ্চুরিতে পঞ্চম অ্যাশেজ টেস্টে দাপট অস্ট্রেলিয়ার

By স্পোর্টস ডেস্ক
6 January 2026, 08:05 AM

ট্রাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথের দুর্দান্ত দুই সেঞ্চুরিতে পঞ্চম ও শেষ অ্যাশেজ টেস্টের তৃতীয় দিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা।

রানমেশিন ট্রাভিস হেড খেলেন আক্রমণাত্মক ১৬৩ রানের ইনিংস, আর অন্য প্রান্তে স্টিভ স্মিথ ছিলেন অনড়, অপরাজিত ১২৯ রানে। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৩৮৪ রানের জবাবে দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৫১৮ রান। স্টাম্পসের সময় স্মিথের সঙ্গে ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন বিউ ওয়েবস্টার।

এই সিরিজে এটি ছিল বিধ্বংসী ওপেনার হেডের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে পার্থে ম্যাচজয়ী ১২৩ ও অ্যাডিলেডে ১৭০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, কিছুটা অস্থির ভঙ্গিতে হলেও স্মিথ ছিলেন সমানভাবে কার্যকর। তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৭তম শতকে ভর করে স্বাগতিকদের বড় স্কোরে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে অ্যাশেজ ধরে রেখেছে। আগের টেস্টে মেলবোর্নে জয়ের পর শেষ ম্যাচে আরেকটি জয় পেতে মরিয়া ছিল ইংল্যান্ড।

হেড মাত্র ১০৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং দেখে মনে হচ্ছিল ২০০ রানের দিকেই এগোচ্ছেন। তবে মধ্যাহ্নভোজের পর তৃতীয় ওভারে সিরিজে প্রথমবার বোলিং করতে আসা পার্টটাইম স্পিনার জ্যাকব বেথেলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে থামেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই বেথেল সুইপ করতে গিয়ে হেডকে ফাঁদে ফেলেন, শেষ হয় এক অনবদ্য ইনিংস।

তবে বেথেলকে মোটেও পাত্তা দেননি স্মিথ। তার ওপর চড়াও হয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান তিনি। এই সেঞ্চুরি ছিল স্মিথের অ্যাশেজে ১৩তম, যার মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি জ্যাক হবসকে ছাড়িয়ে যান। অ্যাশেজে তার চেয়ে বেশি শতক আছে কেবল ডন ব্র্যাডম্যানের ১৯টি।

নিজের ৮৮তম ও শেষ টেস্ট খেলতে নামা উসমান খাওয়াজা অবসরের ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন। তিনি ১৭ রান করে ব্রাইডন কার্সের বলে এলবিডব্লিউ হন। অ্যালেক্স কেরি করেন ১৬ রান, এরপর জশ টাংয়ের বলে কিপারের হাতে ক্যাচ দেন। নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসার ২৪ ও ক্যামেরন গ্রিন করেন ৩৭ রান।

এর আগে সোমবার জেক ওয়েদারাল্ড (২১) ও মার্নাস লাবুশানের (৪৮) বিদায়ের পর হেড ৯১ ও নেসার ১ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করেন। শুরুতেই বেন স্টোকসকে মিডউইকেটে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আগ্রাসনের ইঙ্গিত দেন হেড। টাংয়ের বলে কভার দিয়ে মারা তার ১৭তম চারে তিন অঙ্কে পৌঁছান তিনি, ব্যাট ঘুরিয়ে উদযাপন করেন সেঞ্চুরি।

এটি ছিল হেডের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম শতক এবং সিডনিতে তার প্রথম। এতে করে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বহুমুখী ব্যাটার হিসেবে নিজের সুনাম আরও দৃঢ় করেন তিনি। খাজার পিঠের চোটের কারণে পার্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেন করতে নেমেছিলেন হেড, আর তারপর থেকেই সেই জায়গাটা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন।

সেঞ্চুরির পর ম্যাথিউ পটসের এক ওভারে টানা তিনটি চার মারেন হেড। ১২১ রানে থাকতে বড় রকমের জীবন পান তিনি, কার্সকে পুল করে মারলে বাউন্ডারির কাছে সহজ ক্যাচ ফেলেন উইল জ্যাকস।

নেসার ৯০ বল টিকে থেকে ইংল্যান্ডকে ভোগান। তাকে আউট করতে গিয়ে শেষ দুই রিভিউও নষ্ট করে সফরকারীরা। টপ অর্ডারের ব্যাটারের মতো খেলতে থাকা নেসার চারটি চার মারার পর কার্সের বলে হালকা এজে উইকেটকিপার জেমি স্মিথের হাতে ধরা পড়েন।

স্মিথ ১২ রানে থাকতে লেগ স্লিপে জ্যাক ক্রলির হাতে জীবন পান। মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত টিকে থেকে পরে সোজা ড্রাইভে ৫০ পূর্ণ করেন তিনি। খাজা আউট হওয়ার পর কেরি পরপর কিছু পাঠ্যবইয়ের মতো শট খেললেও আগের দুই টেস্টের মতোই একই ধরনের আউটে বিদায় নেন।

অটল মনোভাব নিয়ে স্মিথ স্টোকসকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে লিড এনে দেন। এরপর ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে গিয়ে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।

অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন এই টেস্টে নামার আগে ব্যাট ও বল, দুটোতেই ব্যর্থ হওয়ায় চাপে ছিলেন, এমনকি তার স্বয়ংক্রিয় দলে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এই ইনিংসে একটি দারুণ কভার ড্রাইভ ও একটি বড় ছক্কায় নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখান তিনি। কিন্তু এরপর অপ্রয়োজনে কার্সের বলে ডিপে বেন ডাকেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে উইকেট ছুড়ে দেন।