‘কঠিন শিক্ষা’র পরও বাংলাদেশের উন্নতিতে আশাবাদী হামজা
এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শেষ হয়েছে লাল-সবুজদের বাছাইপর্বের মিশন। বিদায়বেলায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ঘিরে ধরেছে দলকে। তবে এই হতাশার মাঝেও সতর্ক আশাবাদের সুর শোনা গেল বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা হামজা চৌধুরীর কণ্ঠে। এই বিদায়কে একটি ‘কঠিন শিক্ষা’ হিসেবে দেখলেও, গত এক বছরে বাংলাদেশ দলের যে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে, তা নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি।
হারের পর বাংলাদেশ দল যখন দেশে ফিরছিল, তখন ইংল্যান্ডগামী হামজা চাঙ্গি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, 'এটি সামনের দিকে একটি বড় ধাপ। সিঙ্গাপুর যারা আগেই মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, তাদের মাঠে এসে আমরা যে ধরনের ফুটবল খেলেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত। এটি পরবর্তী টুর্নামেন্টের জন্য আমাদের দারুণভাবে প্রস্তুত করবে।'
প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ও পুরো দলের মাঝে এই হারের তাৎক্ষণিক যে কষ্ট রয়েছে, সেটি স্বীকার করে নিয়েছেন হামজা। তবে তিনি মনে করেন, নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকে একটু গভীরভাবে তাকালেই বোঝা যাবে, এশিয়ার মঞ্চে ধীরে ধীরে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
এই মিডফিল্ডার বলেন, 'অবশ্যই আমরা যোগ্যতা অর্জন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই ধরনের কঠিন শিক্ষাগুলোই সবাইকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। হতাশা তো আছেই, তবে যখন আমরা পিছন ফিরে ম্যাচগুলোর দিকে তাকাব, তখন বুঝতে পারব দল হিসেবে আমরা কতটা পরিণত হয়েছি।'
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা জানান, বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াটা তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক। তার ভাষায়, 'এটি অসাধারণ, সত্যি বলতে, আমার জীবনের সেরা কাজগুলোর একটি।'
ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বাংলাদেশের প্রবাসী সমর্থকদেরও বিশেষ প্রশংসা করেন। কালাংয়ের জাতীয় স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত হয়ে যেভাবে গলা ফাটিয়েছেন, তাতে অনেক সময়ই স্বাগতিক দর্শকদের আওয়াজ ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হামজা বলেন, 'আমার মনে হয় তারাই বিশ্বের সেরা সমর্থক। আমরা বাছাইপর্ব পার হতে পারিনি, তারপরও তারা যেভাবে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে মাঠে এসে আমাদের সমর্থন জুগিয়েছে, তার কোনো তুলনা হয় না। আমরা তাদের কাছে সত্যিই অনেক কৃতজ্ঞ।'
আগামী সেপ্টেম্বরে পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক উইন্ডোর আগে গ্রীষ্মকালীন বেশ কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। সামনের দিনগুলোর কথা ভেবে হামজা জানালেন, এখন দলের ভেতরের মানসিকতা ও প্রত্যাশাতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে।
দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে তিনি বলেন, 'আমরা এখন জেতার প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে নামি। মাঠে আমাদের সাম্প্রতিক কিছু পারফরম্যান্সের পর, দেশবাসী এবং আমাদের নিজেদের মাঝেও এই প্রত্যাশার জায়গাটা তৈরি হয়েছে।'