ভক্তদের ক্ষোভ সত্ত্বেও বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া মূল্যের পক্ষে ইনফান্তিনোর সাফাই

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের তীব্র সমালোচনার মুখে এর পক্ষে সাফাই গাইলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গত মঙ্গলবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী টিকিটের মূল দামের চেয়ে কয়েক হাজার ডলার বেশিতে তা পুনরায় বিক্রির (রিসেল) যে সুযোগ রয়েছে, ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সেই সুযোগ নিতে তারা বাধ্য।

টিকিটের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে ফিফাকে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই) এই দাম নির্ধারণকে ‘জবরদস্তি’ এবং ‘বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অতিরিক্ত দামের অভিযোগে গত মার্চে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে ফিফার বিরুদ্ধে মামলাও করেছে সংগঠনটি।

গত সপ্তাহে ফিফার নিজস্ব রিসেল ওয়েবসাইট ‘ফিফা মার্কেটপ্লেসে’ দেখা যায়, ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠেয় ফাইনাল ম্যাচের ৪টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ২০ লাখ ডলারেরও বেশি দামে (প্রতিটি)।

বেভারলি হিলসে এক কনফারেন্সে ইনফান্তিনো বলেন, এই উচ্চমূল্য মূলত বিশ্বকাপের প্রতি মানুষের প্রবল চাহিদারই প্রমাণ। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘কেউ যদি সত্যিই ২০ লাখ ডলারে ফাইনালের টিকিট কেনে, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য হটডগ ও কোক নিয়ে যাব, যাতে তার অভিজ্ঞতাটা দারুণ হয়।’

সমর্থক গোষ্ঠীগুলো ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের দামের সঙ্গে কাতার বিশ্বকাপের বিশাল পার্থক্যের বিষয়টি সামনে এনেছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল দাম ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার। সেখানে ২০২৬ আসরের ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১১,০০০ ডলার।

তবে এই দাম বৃদ্ধিকে যৌক্তিক দাবি করে ইনফান্তিনো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অনুযায়ী আমাদের চলতে হবে। আমরা যদি খুব কম দামে টিকিট বিক্রি করি, তবে সেগুলো পরে রিসেল মার্কেটে আরও অনেক বেশি দামে বিক্রি হবে। বাস্তবতা হলো, আমাদের দামের চেয়েও দ্বিগুণ মূল্যে মানুষ রিসেল মার্কেট থেকে টিকিট কিনছে।’

ইনফান্তিনো আরও জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ কোটির বেশি টিকিটের আবেদন পেয়েছে ফিফা। তিনি দাবি করেন, গ্রুপ পর্বের ২৫ শতাংশ টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের নিচে রাখা হয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ ডলারের নিচে কলেজ পর্যায়ের কোনো খেলা দেখাও অসম্ভব, সেখানে এটি তো বিশ্বকাপ!