রদ্রিকে নিয়ে নতুন দাম চাইল ম্যানসিটি, চাপে রিয়াল মাদ্রিদ
রদ্রিগো হার্নান্দেজকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদের স্বপ্নটা ধীরে ধীরে এগোলেও শেষ হচ্ছে না অপেক্ষা। ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রিকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়ে আসতে চায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। খেলোয়াড়ের নিজের ইচ্ছাও নাকি একই। কিন্তু চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে এখনো বড় অঙ্কের পার্থক্যে আটকে আছে দুই ক্লাব।
৩০ বছর বয়সী রদ্রি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছেন ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ইংলিশ ক্লাবটি তার সঙ্গে নতুন চুক্তির প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানাননি স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এর মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার আগ্রহের খবর আরও জোরালো হচ্ছে।
রদ্রির ইচ্ছা এবং রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহ দুটিই যখন একই দিকে, তখন মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের অঙ্ক। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের চাহিদার ব্যবধান কিছুটা কমার ইঙ্গিত থাকলেও এখনো তারা একমত হওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি।
স্কাই স্পোর্টসের সাংবাদিক প্যাট্রিক বার্গারের তথ্য অনুযায়ী, রদ্রিকে ছাড়তে ম্যানচেস্টার সিটি তার দাম নির্ধারণ করেছে ৭৫ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ এই মুহূর্তে রদ্রির জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি খরচ করতে রাজি নয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটি প্রায় ৬৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই ক্লাবের চাওয়ার মধ্যে পার্থক্য এখন প্রায় ২৫ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা।
তবে এই বিশাল ব্যবধানই যে রদ্রির সম্ভাব্য রিয়াল যাত্রার পথে শেষ বাধা, তা নয়। দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনায় এই পার্থক্য কমানোর একটি পথও রয়েছে। মূল দামের সঙ্গে বিভিন্ন শর্ত ও পারফরম্যান্সভিত্তিক অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে চুক্তির কাঠামো সাজানো হতে পারে। এমন পদ্ধতিতে রিয়াল মাদ্রিদও আপস করতে রাজি বলে জানা গেছে।
রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও নাকি এই ধরনের সমাধান মেনে নিতে প্রস্তুত। ফলে ম্যানচেস্টার সিটির চাওয়া ৭৫ মিলিয়ন ইউরো এবং রিয়ালের প্রাথমিক প্রস্তাব ৫০ মিলিয়ন ইউরোর মাঝখানে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুরুতে রদ্রিকে নিয়ে রিয়ালের আগ্রহ কতটা বাস্তব, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সংশয় অনেকটাই কেটে গেছে। এখন জানা গেছে, খেলোয়াড়, রিয়াল মাদ্রিদ এবং সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ইচ্ছা মোটামুটি একই জায়গায় রয়েছে।
রদ্রির জন্য তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অর্থের অঙ্ক। সেটি সমাধান করা অসম্ভব কোনো বিষয় নয় বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। দুই ক্লাব যদি চূড়ান্ত অর্থের কাঠামো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তাহলে রিয়ালের সঙ্গে রদ্রির চুক্তির মেয়াদ হতে পারে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।