রিয়াল-বার্সার আয়-ব্যয়ের খতিয়ান: কাকে কিনল, কাকে বিক্রি করল

স্পোর্টস ডেস্ক

লা লিগার গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোর পর্দা নেমেছে মঙ্গলবার রাতে। ২০২৬/২৭ মৌসুমের লড়াইয়ের জন্য স্কোয়াড পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।

বড় অঙ্কের অর্থ ঢেলে নতুন তারকাদের দলে নেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু নামকরা ও পরিচিত মুখকে বিদায়ও জানিয়েছে দুই পরাশক্তি।

রিয়াল মাদ্রিদ:

সদ্য সমাপ্ত উইন্ডোতে রিয়ালের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হলেন ইয়ান দিওমান্দে। আরবি লাইপজিগ থেকে এই আইভরিয়ান উইঙ্গারকে কিনতে তারা খরচ করেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো।

স্কোয়াডের গভীরতা বাড়াতে চেলসি থেকে স্প্যানিশ লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়াকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, লেভান্তে থেকে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার কার্লোস এসপিকে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো এবং ইন্টার মিলান থেকে ডাচ মিডফিল্ডার ডেনজেল ডামফ্রিসকে ২ কোটি ইউরোতে চুক্তিবদ্ধ করেছে রিয়াল। এছাড়া, ফ্রি এজেন্ট থাকায় ম্যানচেস্টার সিটির পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা এবং লিভারপুলের ফরাসি সেন্টার-ব্যাক ইব্রাহিমা কোনাতে বিনামূল্যে যোগ দিয়েছেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।

এবারের দলবদলে নতুন খেলোয়াড় কিনতে রিয়ালের মোট খরচ হয়েছে ২২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো।

বিদায় নেওয়াদের মধ্যে বড় পরিমাণ অর্থ এসেছে তরুণদের কাছ থেকে। ফুলহ্যামের কাছে গঞ্জালো গার্সিয়াকে ৪ কোটি ইউরো এবং সেসার পালাসিওসকে ১ কোটি ইউরোতে বিক্রি করেছে লস ব্লাঙ্কোরা। ফ্রি ট্রান্সফারে দানি সেবায়োস গেছেন রিয়াল বেতিসে। আর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ক্লাব ছেড়েছেন দুই বর্ষীয়ান ফুটবলার দানি কারভাহাল ও দাভিদ আলাবা।

সব মিলিয়ে ফুটবলার বিক্রি থেকে রিয়ালের আয় হয়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ইউরো। অর্থাৎ দরকষাকষির বাজার শেষে রিয়ালের নিট খরচ দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৬৫ লাখ ইউরো।

রদ্রিকে কেনার পরিকল্পনাও ছিল সফলতম স্প্যানিশ ক্লাব রিয়ালের। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা কিছুদূর এগিয়েছিল। সেটার ইতি টেনে রদ্রি শেষমেশ বার্সায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বার্সেলোনা:

আর্থিক সীমাবদ্ধতার বাধা কাটিয়ে স্কোয়াডের শক্তি বাড়াতে অনেক ব্যয় করেছে বার্সেলোনা। নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ৮ কোটি ইউরোতে ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন এবং ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৬ কোটি ইউরোতে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে টেনেছে তারা।

এছাড়া, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে জার্মান উইঙ্গার করিম আদেইয়েমি ২ কোটি ২০ লাখ ইউরো এবং আর্সেনাল থেকে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস ১ কোটি ইউরোতে যোগ দিয়েছেন ক্যাম্প ন্যুতে। বিনামূল্যে দলটিতে ফিরেছেন পর্তুগিজ ফুলব্যাক জোয়াও কানসেলোকে। আর ২০ লাখ ইউরোতে ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচকে নিয়েছে কাতালানরা।

সব মিলিয়ে এই গ্রীষ্মকালীন উইন্ডোতে নতুনদের আনতে বার্সেলোনার খরচ হয়েছে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ইউরো।

খেলোয়াড় বিক্রি করেও বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ তুলেছে বার্সেলোনা। পিএসজির কাছে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ইউরোতে বিক্রি করা হয়েছে ফেরান তরেসকে। নতুন ঠিকানায় যাওয়া আনসু ফাতি (মোনাকো) ও টমি মার্কেস (ব্রাগা) দুজনই ১ কোটি ১০ লাখ ইউরো করে এনে দিয়েছেন।

সবচেয়ে বড় বিদায়টি ছিল চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়া রবার্ত লেভানদোভস্কির। তিনি বিনা ট্রান্সফার ফিতে যোগ দিয়েছেন এমএলএসের ক্লাব শিকাগো ফায়ারে। আর গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনকে আয়াক্স আমস্টারডামে এবং ডিফেন্ডার রোনাল্দ আরাউহোকে লিভারপুলে ধারে পাঠিয়েছে বার্সা।

খেলোয়াড় বিক্রি করে বার্সেলোনার মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৯৫ লাখ ইউরো। সব হিসাব কষে তাদের নিট খরচ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো।

জেসুসকে নেওয়ার আগে হুলিয়ান আলভারেজের দিকে নজর ছিল লা লিগার শিরোপাধারী বার্সার। কিন্তু কাতালানদের কাছে তাকে বিক্রি করা তো দূরের ব্যাপার, এই বিষয়ে কোনো আলোচনাতেই বসতে রাজি হয়নি অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।