ভারতে খেলতে কীভাবে রাজি হলো ব্রাজিল, জানালেন নেপথ্যের কারিগর
ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল জাতীয় দলকে ভারতে এসে খেলবে, তাও স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে। দেশটির ফুটবল সমর্থকদের কাছে এক সময় অলীক স্বপ্ন মনে হলেও তা এখন বাস্তবায়নের পথে। সব ঠিক থাকলে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে ফিফা র্যাঙ্কিং কিংবা ফুটবলের ঐতিহ্যে যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা ভারতের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলতে কীভাবে রাজি হলো সেলেসাওরা? কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই রোমাঞ্চকর নেপথ্য গল্প তুলে ধরেছেন এই মেগা ইভেন্টের অন্যতম মূল উদ্যোক্তা ও 'বেস্ট অব ইউ ইন্ডিয়া'র পরিচালক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনকে (সিবিএফ) রাজি করানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সৌরভ বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আমাদের যা যোগাযোগ, তাতে আমরা পারব। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে আমাদের “বেস্ট অব ইউ”-এর মাদ্রিদের ডিরেক্টরের খুব ভাল সম্পর্ক। আমরা সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে (এআইএফএফ) জানালাম। গত জুনে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ওরা এককথায় রাজি হয়ে গেল।’
তবে কেবল রাজি করানোই শেষ কথা ছিল না, পাঁচবারের বিশ্বজয়ী দলটির আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সব আয়োজন সম্পন্ন করা ছিল এক বিশাল চ্যালঞ্জ।
প্রস্তুতির সেই কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সৌরভ বলেন, ‘গোটা ব্যাপারটা বাস্তবায়িত করতে অনেক বিনিদ্র রজনী কেটেছে। আমার সহকর্মী অনুজ কিচলু খুব পরিশ্রম করেছে। রোজ যোগাযোগ করে যেতে হয়েছে। ব্রাজিল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা বারবার রেকি করতে এসেছেন। সরেজমিনে দেখে গিয়েছেন। নিরাপত্তা, মাঠের অবস্থা সবকিছু নিয়ে ওঁরা অত্যন্ত খুঁতখুঁতে। হবে নাই বা কেন? ব্রাজিল তো আর এমনিই হয়নি।’
ব্রাজিল প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের সময়ের এক স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রথমে ছয় সদস্যের দল পাঠাল। ডুরান্ডের সেমিফাইনালের ঠিক পরের দিন উনারা এসেছিলেন। মনে থাকবে হয়তো, ওই ম্যাচে তুমুল বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে তারা যখন এসেছিলেন, তখন যুবভারতীর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। কিন্তু আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছি, তারাও সাহায্য করেছেন। অসুবিধে হয়নি।’
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের ফিফা উইন্ডো সমন্বয় করা এবং এশিয়ায় ভ্রমণের সূচি মেলাতে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশাল বাজেটের এই ম্যাচটি কেবল একটি প্রদর্শনী ম্যাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সৌরভ চট্টোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় পা রাখবেন ভিনিসিউস জুনিয়র, রাফিনিয়ারা। শুক্রবার অনুশীলন করে শনিবার ম্যাচ খেলবেন তারা।