আসিয়ান কাপ

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯ গোলের বন্যায় ভাসল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দুই দলের মধ্যে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধান ৬৩। ইন্দোনেশিয়া আছে ১১৮তম স্থানে, বাংলাদেশ ১৮১ নম্বরে। কাগজ-কলমের এই বড় পার্থক্য মাঠের ভেতরে আরও প্রকটভাবে ফুটে উঠল। প্রথমার্ধেই ছয়বার গোল হজম করে লড়াই থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ! নাটকীয়তার ভরা দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনবার বল জড়াল তাদের জালে। ফলে ভীষণ বিব্রতকর ফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো থমাস ডুলির শিষ্যদের।

বুধবার জাকার্তার জাকার্তায় গেলোরা বাং কার্নো স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন ওয়ানের 'এ' গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ ৯০ মিনিটজুড়ে দারুণ কিছু সেভ না করলে এই ব্যবধান আরও বড় হতে পারত! যদিও বিরতির পর অনেকটা সময় রক্ষণ জমাট রাখতে সমর্থ হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের দুই গোলদাতা হলেন শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলী ওয়াহিদ। স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার হয়ে মিচেল লি বেকার একাই করেন হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ গোল। এছাড়া, জাল খুঁজে নেন রিজকি রিদো, জাস্টিন হাবনার, লুক ভিকারি ও কেভিন ডিকস।

এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত আসিয়ান কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। গোল পার্থক্যে তারা পেছনে ফেলেছে মালয়েশিয়াকে। তাই একই সময়ে শুরু হওয়া এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিলেও কপাল পুড়েছে মালয়েশিয়ার।

তিন ম্যাচে সমান ৭ পয়েন্ট করে অর্জন করেছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। দুই দলের গোল ব্যবধানও সমান (+৭)। তবে ইন্দোনেশিয়া গোল বেশি (১১) করার সুবাদে মালয়েশিয়াকে (৯) টপকে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে।

ম্যাচের একাদশ মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন বেকার। নয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ৩২তম মিনিটে ফের বাংলাদেশের জালে বল পাঠান রিদো।

চার মিনিট পর ইতোফুসা শুকির ক্রসে ইমন হেড থেকে গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু এই গোল হজমের পর যেন আরও তেতে ওঠে ইন্দোনেশিয়া। ৩৭তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বেকার। পাঁচ মিনিট পর আবার লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে শ্রাবণকে হাবনার পরাস্ত করলে আরও পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৬-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইন্দোনেশিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে বেশ প্রতিরোধ গড়ে আমেরিকান কোচ ডুলির দল। ফলে ইন্দোনেশিয়ার হতাশা বাড়তে থাকে। কারণ অন্য ম্যাচে মালয়েশিয়া গোল পার্থক্যে এগিয়ে গিয়ে ফাইনালে খেলার আশা জাগায়।

কিন্তু শেষদিকে দেখা মেলে রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তার। ৯০তম মিনিটে নিশানা ভেদ করেন ভিকারি। বদলি নামা ফারহান পরের মিনিটে রাকিবের ক্রসে গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-২। ফলে ফাইনালের টিকিট কাটতে স্বাগতিকদের চাহিদা দাঁড়ায় আরও দুই গোলের। সেই সমীকরণ মিলিয়েও ফেলে তারা!

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ডিকস জাল খুঁজে নেওয়ার দুই মিনিট পর ম্যাচে নিজের পঞ্চম ও দলের নবম করে ইন্দোনেশিয়াকে ফাইনালে নিয়ে যান বেকার। তখন মাঠে তীব্র হতাশা আর অসহায়ত্বে ভেঙে পড়েন হামজা চৌধুরী-জামাল ভূঁইয়ারা।

ইন্দোনেশিয়ার কাছে গুঁড়িয়ে যাওয়ার আগের দুই ম্যাচে নিজেরা কোনো গোল করতে না পারলেও বাংলাদেশের হারের ব্যবধান খুব বড় ছিল না। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে আসিয়ান কাপ শুরুর পর লড়াই করে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে পরাস্ত হয়েছিল তারা।