ওয়াসিম ঝড়ে ম্লান সৌম্যের ফিফটি, নোয়াখালীর টানা ষষ্ঠ হার
ব্যক্তিগত কারণে প্রথম তিন ম্যাচ না খেলা সৌম্য সরকার ফিরে দুই ম্যাচ ছিলেন ব্যর্থ, তৃতীয় ম্যাচে রান পেলেন তিনি। তবে তার লড়াকু ফিফটির পরও লড়াই করার মতো পুঁজি গড়তে পারেনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস। রান তাড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিমের টর্নেডো ইনিংসে অনায়াস জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বিপিএলের ম্যাচে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। সৌম্যের ৪৩ বলে ৫৯ রানের সৌজন্যে নোয়াখালীর করা ১৫১ রান ৬ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩৫ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে রাজশাহীর নায়ক আমিরাতের ওয়াসিম।
এই হারে বিপিএলে নবাগত দল নোয়াখালীর হারের বৃত্ত আরও দীর্ঘ হলো; টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন রইল তারা। অন্যদিকে ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এল রাজশাহী।
রান তাড়ায় রাজশাহীর শুরুটা ছিল মন্থর। প্রথম দুই ওভারে আসে মাত্র ৩ রান। তবে তৃতীয় ওভারেই খোলস ছেড়ে বের হন মোহাম্মদ ওয়াসিম। হাসান মাহমুদের করা মেডেন ওভারের পরেই তার ওপর চড়াও হন এই ওপেনার। তানজিদ হাসান তামিমকে এক প্রান্তে দর্শক বানিয়ে পাওয়ার প্লে-তেই স্কোরবোর্ডে তোলেন ৪৭ রান। ২০ বলে ২১ রান করে তানজিদ বোল্ড হলে ভাঙে ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১) দ্রুত ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে রাজশাহী। তবে অন্য প্রান্তে ঝড় অব্যাহত রাখেন ওয়াসিম। দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে কাটা পড়ার আগে ৩৫ বলে ৪টি করে ছক্কা ও চারে ৬০ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন তিনি।
মাঝপথে মুশফিকুর রহিম (১৯), ইয়াসির আলি ও এসএম মেহরুবরা দ্রুত ফিরলে ম্যাচ কিছুটা জমে ওঠে। তবে জিম্বাবুইয়ান রিক্রুট রায়ান বার্লের ১৮ বলে অপরাজিত ১৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে জয় নিশ্চিত হয় রাজশাহীর।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় নোয়াখালী। ওপেনিংয়ে শাহাদাত হোসেন দীপুকে নিয়ে ৪১ রান যোগ করেন সৌম্য। শাহাদাত ৩০ রানে ফেরার পর মাজ সাদাকাত দ্রুত বিদায় নিলেও মোহাম্মদ নবিকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন সৌম্য।
৪০ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা সৌম্য ইনিংস বড় করার চেষ্টায় ছিলেন। তবে হাসান মুরাদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার ৫৯ রানের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। শেষ দিকে নবি ২৬ বলে ৩৫ রান করলেও বাকিদের ব্যর্থতায় ১৫১ রানে থামে নোয়াখালীর ইনিংস।