ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপে খেলতে চায় না ইতালি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের মতো মহারণ্যে জায়গা পাওয়া মানে শুধু খ্যাতি নয়, বরং কঠোর লড়াইয়ের পুরস্কার। সেই জায়গা যদি মাঠের বদলে রাজনীতির টেবিলে নির্ধারিত হওয়ার চেষ্টা হয়, তাহলে বিতর্ক তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এবার ঠিক তেমনই এক আলোচনায় জড়িয়ে পড়েছে ইতালি।

ইতালি স্পষ্টভাবেই উড়িয়ে দিয়েছে এমন সব গুঞ্জন, যেখানে বলা হচ্ছিল তারা নাকি ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্র্যাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি সম্প্রতি ফিফাকে এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

তবে ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি একেবারেই পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, 'প্রথমত এটি সম্ভব নয়, দ্বিতীয়ত এটি সঠিকও নয়। বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হলে মাঠেই যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।'

একই সুর শোনা গেছে ইতালির অলিম্পিক কমিটির প্রধান লুসিয়ানো বুওনফিগলিওর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, 'এভাবে সুযোগ পেলে আমি নিজেকে অপমানিত মনে করতাম। বিশ্বকাপে জায়গা অর্জন করতে হয়, উপহার হিসেবে পাওয়া যায় না।'

জাম্পোল্লি অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। তার মতে, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির মতো দল বিশ্বকাপে থাকলে তা ‘স্বপ্নপূরণ’ হবে। তবে বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগভিনার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা হারিয়েছে ইতালি।

অন্যদিকে, রোমে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই প্রস্তাবকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘নৈতিক দেউলিয়াত্ব’-এর পরিচয় এবং ইতালির মতো দেশের ফুটবল মহত্ত্ব প্রমাণে কোনো রাজনৈতিক সুবিধার প্রয়োজন নেই।

ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে। তবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানই বিশ্বকাপে খেলবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অংশ নেবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সময় একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জাম্পোল্লি, কিন্তু তখনও সেটি গুরুত্ব পায়নি।