আমরা সব সময়ই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই: আলভারেজ

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ শিরোপা ফের জয়ের জন্য আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হয় কাতারে অনুষ্ঠিত সবশেষ আসরে। সেই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হুলিয়ান আলভারেজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে জোড়া গোলসহ মোট চারটি গোল করেছিলেন। আসন্ন বিশ্বকাপেও নিজেদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার স্বপ্ন দেখছেন আত্মবিশ্বাসী এই তারকা স্ট্রাইকার।

আগামী জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের আসরের ‘জে’ গ্রুপে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও নবাগত জর্ডান। ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

বিশ্বকাপের আয়োজক ফিফার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার লক্ষ্যের কথা শোনাতে গিয়ে আলভারেজ বলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের চাওয়া থাকে একটাই, ‘একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে (বিশ্বকাপ ঘিরে) সব সময়ই একটা বাড়তি উত্তেজনা কাজ করে এবং আমরা সব সময়ই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। এবারও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা ফাইনালে পৌঁছাতে চাই। আমরা জানি, কাজটা সহজ হবে না। এর জন্য আমাদের অনেক ঘাম ঝরাতে হবে এবং ছোট ছোট ভুলের কারণে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যেতে পারে। তবে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামব এবং ধাপে ধাপে এগোব।’

তিনি যোগ করেন, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে পা রাখাটা এক কথায় অবিশ্বাস্য। আমি ভীষণ গর্বিত বোধ করছি। অবশ্যই, আমরা শিরোপা ধরে রাখতে চাই এবং আমাদের দেশের মানুষকে আবারও আনন্দে ভাসাতে চাই।’

বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড এখনও ঘোষণা করেননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে সেখানে আলভারেজের থাকা একরকম নিশ্চিত। চলতি মৌসুমে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা স্মরণ করে আলভারেজ বলেন, এবারের বিশ্বকাপে তারা ইতিহাস গড়তে চান, ‘আমরা যদি শিরোপা ধরে রাখতে পারি, তবে এটি ইতিহাসে লেখা থাকবে। কারণ এর মধ্য দিয়ে আমরা টানা দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হব। পাশাপাশি এর মাঝে আমরা দুবার কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছি। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশের ফুটবলে একটি সোনালী যুগ চলছে। তাই আমরা আশা করছি, এমন আরও অবিশ্বাস্য মুহূর্ত উপভোগ করতে পারব, যা আমাদের সবাইকে ভীষণ খুশি করবে।’

নিজের পারফরম্যান্সের ওপর জাতীয় দলের প্রভাব নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলব না যে ২০২২ সাল থেকে আমার খেলার ধরনে খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে। তবে আমি নতুন কিছু কৌশল শিখেছি এবং নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় উন্নতি করেছি। গত কয়েক বছরে প্রচুর ম্যাচ খেলার সুবাদে আমার অভিজ্ঞতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই জার্সি (আর্জেন্টিনার) গায়ে জড়ালে ভেতর থেকে বাড়তি একটা অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। আপনি নিজে হয়তো বুঝতেও পারবেন না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার খেলা এমনিতেই আরও পরিণত হতে থাকবে।’