আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই রেফারি

স্পোর্টস ডেস্ক

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই অতিপ্রাকৃতিক ফাইনালের কথা মনে আছে? আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল মহাকাব্যের সাড়ে তিন বছর পার হয়ে গেছে। লিওনেল মেসির বিশ্বজয়ের সেই রাতে মাঠে আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। টাক মাথার পোলিশ রেফারি সাইমন মারচিনিয়াক, যিনি চরম উত্তেজনার মধ্যেও ম্যাচটি পরিচালনা করেছিলেন অসাধারণ দক্ষতায়।

সেই চেনা মুখটিই আবারও আর্জেন্টিনার সামনে। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আগামীকাল বুধবার সকালে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা। কানসাস সিটির 'জে' গ্রুপের ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মারচিনিয়াককে।

বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ভাবা হয় ৪৫ বছর বয়সী এই রেফারিকে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ভিএআরের (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) ওপর খুব বেশি নির্ভর না করেই মাঠের ভেতর বেশ কিছু সাহসী ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় ছিল ডি-বক্সে ফরাসি ফরোয়ার্ড মার্কাস থুরামের ডাইভিং ধরে ফেলা। টিভির পর্দায় কোটি কোটি দর্শক প্রথম দেখায় ফাউল মনে করলেও মারচিনিয়াকের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়নি। অতিরিক্ত সময় শেষে ৩-৩ গোলে সমতায় থাকা সেই ধ্রুপদী লড়াইয়ে তিনি মোট ৭টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন।

বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা মারচিনিয়াকের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও আলবিসেলেস্তেদের দুটি ম্যাচে বাঁশি মুখে ছিলেন তিনি।

২০১৮ বিশ্বকাপে মস্কোতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি শেষ হয়েছিল ১-১ ড্রয়ে। সেই ম্যাচে মেসি পেনাল্টি মিস করেছিলেন এবং মারচিনিয়াককে পুরো ম্যাচে একটি কার্ডও বের করতে হয়নি। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের শেষ ষোলোর ম্যাচেও রেফারি ছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জেতা সেই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন এই রেফারি।

২০১১ সালে ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হওয়া মারচিনিয়াক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সব বড় মঞ্চেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। ২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার সিটি ও ইন্টার মিলানের মধ্যকার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালটি কোনো বিতর্ক ছাড়াই সফলভাবে শেষ করেছিলেন তিনি।

এছাড়া, ২০২৪ উয়েফা ইউরোর ফাইনালে স্পেন ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে ফোর্থ অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পোতস্কে জন্ম নেওয়া এই রেফারি। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকসের (আইএফএফএইচএস) মূল্যায়নে ২০২২ সালের বিশ্বসেরা রেফারিও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনা যখন দারুণ শুরুর খোঁজে এবং বিপরীতে আলজেরিয়া যখন বুক বাঁধছে অঘটনের স্বপ্নে, তখন মাঠের নিয়ন্ত্রণ থাকবে এক জোড়া বিশ্বস্ত হাতেই। ফুটবলবিশ্ব তাই আরও একবার মারচিনিয়াকের বাঁশির অপেক্ষায়।