‘দুর্দান্ত দলের’ কাছে হেরে মরক্কোর কোচ বললেন, ‘সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি’

স্পোর্টস ডেস্ক

নিজেদের সেরা প্রজন্ম নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তি হয়ে উঠেছিলো মরক্কো। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা দলটি এবার দেখছিল আরও বড় স্বপ্ন। তবে এবার সেমির আগেই ফ্রান্সের মতো দলের সামনে পড়ায় আর এগুনো হলো না তাদের। মোহাম্মদ ওয়াহবি বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে বলছেন, দুর্দান্ত দলের কাছে হারলেও খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত তিনি।

গত রাতে বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলেদের তীব্র আক্রমণের তোড় বেশিক্ষণ সামলাতে পারেনি তারা। গত বিশ্বকাপের সেমিতে উঠেও মরক্কো হেরেছিলো এই ফ্রান্সের কাছে, সেবারও ব্যবধান ছিলো ২-০। 

কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, টানা দ্বিতীয় টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের কাছে হারলেও এবং মাঠের পারফরম্যান্সে বেশ বেগ পেতে হলেও তার দল একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি রেখে যেতে পেরেছে।

সাংবাদিকদের ওয়াহবি বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের মাথা উঁচু রাখতে বলেছি কারণ আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, নিজেদের সেরাটা দিয়েছি। তবে অবশ্যই, আমাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে; আরও উন্নতি করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।’

‘আমরা স্রেফ এটুকু বলেই বসে থাকতে পারি না যে আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে খুশি ও গর্বিত। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, আর তার জন্য আমাদের বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে, নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে।’

শেষ আটের এই লড়াইয়ের শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই ফ্রান্সের তুলনায় মরক্কোকে বেশ ব্যাকফুটে থাকতে দেখা গেছে এবং তারা ফরাসি গোলবারে তেমন কোনো ভীতিই ছড়াতে পারেনি।

ওয়াহবি বলেন, ‘আমরা হতাশ, তবে প্রথমার্ধটি খুবই কঠিন ছিল, ফরাসিরা বল পায়ে দারুণ খেলছিল। তাদের দখলে অনেক বেশি বল ছিল, তারা দুই প্রান্ত দিয়ে তাদের খেলোয়াড়দের মাধ্যমে এবং মাঝমাঠ থেকেও আমাদের বেশ সমস্যায় ফেলেছিল।’

‘যখন বল আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসছিল, তখন আমাদের ট্রানজিশনগুলো (আক্রমণে ওঠা) খুব একটা ভালো হচ্ছিল না। ফলে আমাদের একটু বেশি দৌড়াতে হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়।’

‘আমাদের স্বীকার করতে হবে যে তারা একটি দুর্দান্ত দল। তাদের চমৎকার সব খেলোয়াড় রয়েছে এবং গোল করার মতো আরও ভালো সুযোগ তারা তৈরি করেছিল। আমাদের পরিকল্পনার অভাব ছিল এবং বল যখন আমাদের দখলে ছিল, তখন আরও বেশি কিছু করার মতো সতেজতার ঘাটতি ছিল। আমাদের এই পরাজয় মেনে নিতেই হবে।’

‘ম্যাচ শেষ হওয়ার এত দ্রুত পরেই কথা বলা কঠিন, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর পর কোনো আক্ষেপ নিয়ে কথা বলাটাও জটিল।’

২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপটি স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো।

ফ্রান্সই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতবে কি না—এমন কোনো মন্তব্যের দিকে যেতে রাজি হননি কোচ, তবে তাদের প্রশংসায় কোনো কমতি রাখেননি।

মরক্কো বংশোদ্ভূত ব্রাসেলসে জন্মগ্রহণকারী ওয়াহবি বলেন, ‘তারা একদম ফাইনাল পর্যন্ত যেতে এবং ট্রফিটি জিততে চায়, আর তার সব যোগ্যতাই তাদের আছে। এখন... পরবর্তী ম্যাচেও তাদের এই ধারা বজায় রাখতে হবে... সেমিফাইনালে তাদের স্পেন অথবা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে হবে। আমি আশা করি সেটি যেন বেলজিয়াম হয়।’