‘ইয়ামাল চাইলে আগামী ১৫-২০ বছর তারই’
লামিন ইয়ামাল বর্তমান সময়ের সেরা উদীয়মান ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তার যে খেলার ধরন ও মাঠের প্রভাব, তাকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার ও কোচ জাভি হার্নান্দেজ মনে করেন, ইয়ামাল চাইলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ফুটবল বিশ্ব শাসন করতে পারবেন।
ডালাসে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্স। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায়।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় ইয়ামালের অভিষেক হয়েছিল জাভি কোচ থাকাকালীন। প্রাক্তন শিষ্যের প্রশংসায় আমেরিকান গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের কলামে তিনি লিখেছেন, ‘মাঝে মাঝে আমরা ওর বয়সের কথা ভুলে যাই এবং হয়তো ওর কাছে একটু বেশিই দাবি করে বসি। কিন্তু সে আসলেই অনেক বেশি সামর্থ্যবান।’
তিনি যোগ করেছেন, ইতোমধ্যে ইয়ামালের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে সতীর্থদের, ‘মাঠে সে এত এত কিছু করতে পারে যে দলের ওপর ওর প্রভাব অনেক বেড়েছে। সতীর্থরা এখন ওকে (মাঠের ভেতর) বেশি খোঁজে। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে যখন কোনো সমস্যা তৈরি হয়, বল তখন ইয়ামালের কাছেই যায়।’
বয়স কম হলেও লামিনের নেতৃত্বগুণ নিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক মিডফিল্ডার জাভি আরও বলেছেন, ‘সে মাঠে একজন সত্যিকারের নেতা, যে এত অল্প বয়সেই পার্থক্য গড়ে দেয়। এমনটা আমরা কেবল লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, পেলে ও হয়তো রোনালদোর (নাজারিও) ক্ষেত্রেই দেখেছি।’
২০২৩-২৪ মৌসুমে বার্সেলোনায় দারুণ পারফর্ম করে ২০২৪ ইউরোর স্পেন দলে জায়গা পান এই উইঙ্গার। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে যেমন করেছিলেন, তেমনই নিজের প্রথম বড় টুর্নামেন্টে আলো ছড়িয়ে লা রোহাদের শিরোপা জেতাতে ভূমিকা রেখেছিলেন ইয়ামাল। তবে গত এপ্রিলে পাওয়া হ্যামস্ট্রিং চোট তার বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে।
চলতি বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেলেও ইয়ামাল গোল পেয়েছেন কেবল একটি। এমবাপে বা মেসির মতো জ্বলে উঠতে না পারলেও তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে, ‘আমি ওকে শান্ত থাকতে বলি। সে গত বছর সাবালক হয়েছে। আমি তাকে স্রেফ খেলাটা উপভোগ করতে বলেছি। তার বড় দিনটি আসা এখনও বাকি।’
খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঘাটতির কারণে খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে দে লা ফুয়েন্তেকে। এই বিষয়ে স্প্যানিশ ফুটবল সাংবাদিক রুরিয়াদ বার্লো বলেছেন, ‘এর মানে হলো, ইয়ামালকে এখন আরও কম জায়গা নিয়ে খেলতে হচ্ছে। প্রতিপক্ষের বেশি সংখ্যক ডিফেন্ডার তাকে কড়া পাহারায় রাখছে এবং সামগ্রিকভাবে স্পেনের খেলায় গতিশীলতা কমেছে।’
চলতি বিশ্বকাপে ইয়ামালের খেলা নিয়ে বার্লো আরও বলেছেন, ‘বল নিয়ন্ত্রণ ও জমাট রক্ষণভাগের ওপর ভরসা রাখা স্পেনের ওর কাছ থেকে প্রতি ম্যাচে এমন দুই-তিনটি মুহূর্ত দরকার, যেখানে সে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে উন্মুক্ত বা ভারসাম্যহীন করে দিতে পারে। এখন পর্যন্ত সে কমবেশি সেটাই করে যাচ্ছে।’