এআই প্রযুক্তির সুফল পেতে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যায়: স্যাম অল্টম্যান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

সাম্প্রতিক সময়ে এআই এজেন্ট নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করা থেকে শুরু করে নির্ধারিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম চালানোসহ এআই নিয়ে নানা উদ্বেগজনক খবর প্রায় প্রতিদিনই সামনে আসছে।

ফলে বিভিন্ন মহল থেকে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জোরালো হচ্ছে। কেউ কেউ এআই খাতের উন্নয়নেও রাশ টানার দাবি জানাচ্ছেন।

তবে এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের।

প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার বার্ষিক রাজস্ব উপার্জনকারী শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার স্যাম বলেন, এআই থেকে যেসব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কিছু ‘ঝুঁকি’ থেকে গেলেও খুব বেশি সমস্যা নেই।

তিনি আরও বলেন, সব ধরনের ঝুঁকি নির্মূলের অপেক্ষায় থেকে সাধারণ মানুষকে এর সুফল থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

আজ সোমবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিকোডেড’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যাম বলেন, কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটবেই। এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে যে বিপুল পরিমাণ উপকার আসছে, সেটা পাওয়ার জন্য এই ঝুঁকিটুকু আমাদের গ্রহণ করে নিতেই হবে।

তিনি জানান, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ক্ষেত্রে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে তাদের পার্থক্য দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।

একটি মাত্র গবেষণাগারে এ প্রযুক্তি সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তারাই সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে এর সুফল মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, এমন চিন্তাধারাও নাকচ করেন স্যাম অল্টম্যান।

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি ওপেনএআইয়ের মৌলিক চিন্তাধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

এআই প্রযুক্তি বড় ধরনের কোনো হ্যাকিংয়ের ঘটনায় জড়াবে না, এর কোনো অপব্যবহার হবে না, এর মাধ্যমে কোনো প্রতারণা হবে না বা কোনো ধরনের খারাপ ঘটনা ঘটবে না—এমন আশ্বাসকে পাত্তা না দেওয়ার আহ্বান জানান স্যাম।

ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও এআই প্রযুক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য তাদের হাতে তুলে দিতে আমি রাজি নই। এমনকি সেটি আমার নিজের প্রতিষ্ঠান হলেও না।

স্যাম মনে করেন, মানুষ যে বিষয়টিকে প্রাধান্য দেবে, তা হলো—নেতিবাচক ঘটনার তুলনায় ইতিবাচক ঘটনার সংখ্যা যেন অনেক গুণ বেশি থাকে।

এআই খাতে উন্নয়নের গতি এবং ক্রমেই সক্ষমতা বাড়তে থাকা সিস্টেমগুলোর ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার মধ্যেই অল্টম্যান এসব মন্তব্য করলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সেপ্টেম্বরে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে এআই খাতের উন্নয়নে রাশ টেনে ধরার আহ্বান জানান। সেসময় ওই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন স্যাম।

একই মাসে অ্যানথ্রপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করে বলেন, এআই তৈরি করছেন এমন ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন, ‘এই দশকের শেষ নাগাদ এটি আমাদের সবাইকে হত্যা করতে পারে।’

এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে অ্যানথ্রপিক জানান, অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে পারে। এর মধ্যে শাটডাউন করার প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়া বা তথ্য গোপন করার মতো কর্মকাণ্ডও থাকতে পারে।

এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিশ্বনেতারাও দ্বিধাবিভক্ত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এই খাতে বিধিনিষেধ ও বাড়তি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরোপের বিরোধিতা করে এসেছেন।

তার যুক্তি, এতে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, চীনের নেতা শি জিনপিং মনে করেন, এআই প্রযুক্তির ওপর সব সময়ই মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।

এআই নিয়ে আরও প্রতিবেদন পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে