কাউকে ভালো লেগে গেলে কী করবেন?

অনিন্দিতা চৌধুরী
অনিন্দিতা চৌধুরী

‘আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার ওপরে পড়েছে...’

হ্যাঁ, প্রেমে পড়লে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও কেমন অদ্ভুত আচরণ শুরু করে। তাই আপনার বেশ নাছোড়বান্দা মনটা যখন কাউকে ভেবে ভেবে রাতের ঘুম হারাম করবে কিংবা হয়তো শততম বারের মতো একইরকম আবদারে আপনার আঙিনায় লাফালাফি করবে, তখন বুঝে নিতে হবে—ছোটখাটো কিংবা বড়সড় একটা ‘বিপদ’ ঘটেই গেছে। কাউকে ভালো লেগে যাওয়ার মতো অদ্ভুত বিপদ কি আর আছে নাকি!

Love
ছবি: সংগৃহীত

অপেক্ষা করুন

মনে যখন প্রথমবার কোনো ব্যক্তির জন্য ভালোলাগার বুদবুদ খেয়াল করবেন, তখন একটু থামুন। আবেগের স্রোতে ভেসে যাওয়ার আগে এর বাস্তবতাটা একটুখানি খতিয়ে দেখুন। যাকে আপনার পছন্দ হয়েছে, তার সঙ্গে আপনার মনের ও মতের মিল হওয়া কি সম্ভব? যদিও লোকে বলে, বিপরীত মেরুতেই আকর্ষণ বেশি জমে। কিন্তু তাই বলে একেবারে মৌলিক জায়গাগুলোতে দুজন দুই মেরুর মানুষের এক হওয়ার অঙ্কতে তালগোল পাকিয়ে ফেলার আশঙ্কাও থাকে।

তাই কাউকে মনে ধরলে তাকে একটু বুঝতেও চেষ্টা করুন। তার আর আপনার মৌলিকত্বের জায়গাগুলো কতটা একরকম বা আলাদা। সে তার জীবনের অন্যদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তার জীবন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা কী ইত্যাদি বিষয় প্রাথমিকভাবে জেনে নেওয়ার পরই কোনোপ্রকার সিদ্ধান্তে যান। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ও খেয়াল রাখা জরুরি। তা হচ্ছে—আপনার অনুভূতির স্থায়িত্ব। কেননা ভালোলাগা ও ভালোবাসারও সময় ও স্থায়িত্বভেদে পালটে যায় চেহারা। অনেক সময় আমাদের কাউকে ভালো লাগে। কিন্তু আমরা আসলে তার সঙ্গে ঠিক বেশিদূর এগোতে চাই না। সেক্ষেত্রে অপেক্ষা করাটা আরও বেশি দরকার।

Love
ছবি: সংগৃহীত

জানিয়ে দিন

এতকিছু তো ভেবেচিন্তে ঠিকঠাক করলেন। এবারে বলার পালা। কিন্তু সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই কেন যেন সহজ করে বলার কথাটাই চট করে মাথায় আসে না। ভেবে ভেবে যখন নক্ষত্রপুঞ্জের রহস্যটা পর্যন্ত সমাধান করে ফেলছেন, তখন যার জন্য মনের দুরুদুরু ভাব—তাকেই বলা হয়নি। হয়তো তাকে ছাড়া আপনার জীবনের বাকি সকলেই ব্যাপারটা জানে। ঠিক যেমন আমাদের কৈশোরের প্রেমগুলো, ক্লাসে কাউকে দেখে মনে ধরেছে, কিন্তু সে ছাড়া সকলেই জানে, ভালোবাসার নৌকো সেই কবে থেকে ভেসে চলেছে উদ্দেশ্যহীন ডিঙি হয়ে।

এতে করে রোমান্টিসিজমের কিংবা জম্পেশ প্রেমের গপ্পের আসর জমে, তাতে এক ফোঁটা সন্দেহ নেই। কিন্তু সত্যি বলতে যদি যার জন্য এত জল্পনা-কল্পনা, তাকেই না বলা গেলে এই অনুভূতির ব্যবহারিক কোনো রূপ আপনার সামনে আসবে না। মানে এই প্রণয়ের ভাবটির কোনো পরিণতি বা পরিণয় নিয়ে ভাবনাও তখন অবান্তর মনে হবে। তাই অপর পক্ষের সকল প্রকার সীমারেখা খেয়াল রেখে, সময়-সুযোগ বুঝে এবার বলেই ফেলুন মনের কথাটি।

Love
ছবি: সংগৃহীত

জানাতেই হবে?

একথাও ঠিক যে, সবসময়ই যে কাউকে ভালো লাগলে বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে একশো আটটি নীলপদ্ম তার সামনে হাজির করতে হয়—এমনটা নয়। ভালোলাগা খুবই একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেটির পরবর্তী ধাপগুলো সবসময় একই পদ্ধতিতে এগোয় না। ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে তা আলাদাও হতে পারে।

এমনটাও তো হতে পারে আপনি যাকে পছন্দ করছেন, তিনি ইতোমধ্যেই সুখী একটি সম্পর্কে আছেন। তাই তাকে আপনার ভালোলাগার কথা জানানোতে ভালোর চেয়ে মন্দ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি আগে থেকেই সামাজিক সম্পর্ক ভালো হয়—তবে এই জানানোতে দুপক্ষের অস্বস্তিও অনেক বেশি হতে পারে। অথবা এমনটাও হতে পারে, কারো কারো ভালোলাগা ও ভালোবাসার ধরনটাই এমন যে সে মনে মনেই রেখে দিতে ভালোবাসে মনের গোপন কথাটি। তাদের জন্য তাই একটিই সমাধান এক্ষেত্রে—মনের কথা মনেই থাকুক, জীবন এগিয়ে যাক জীবনের পথে।

কাউকে ভালোলাগার পর আপনার বা তার সিদ্ধান্ত যা-ই হোক না কেন, সেই ভালোলাগার অনুভূতিটায় নিজেকে সর্বস্ব জড়িয়ে নিতে ভুলবেন না যেন। প্রেমে পড়ার অনুভূতি মানবজীবনের অন্যতম সুখের অনুভূতি। এতে থাকা অস্থিরতা, দ্বিধা, অনিশ্চয়তা ও আনন্দের এক অদ্ভুত মিশ্রণে যে নেশায় বুঁদ হয় লোকে, তা নিয়েই তো যুগে যুগে রচনা হয়েছে কত না গান, কবিতা, সাহিত্যের প্রলেপন।

হৃদয়ভঙ্গ হোক বা মিলন আনন্দে ভেসে যাক দুটি মন—প্রেমে পড়ার অভিজ্ঞতা উপভোগ করাটা সবচেয়ে বেশি মাতিয়ে তোলে মনকে। সেই মাতামাতি যতদিনই থাকুক, আনন্দে কাটুক। যেন হঠাৎ বিকেলে সূর্যাস্তের দিকে চেয়ে পৃথিবীর সকল প্রেমের গান নিজের জন্য বলে মনে হয়। প্রেমে পড়ার এমন অভিজ্ঞতা যেকোনো বয়সেই একবার অন্তত হওয়া উচিত, তাই নয় কি?