‘দর্শকরাও তাকে মা হিসেবে দেখতেন’
গুণী অভিনয়শিল্পী শর্মিলী আহমেদের জন্মদিন আজ ৮ মে। নাটক ও সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকের ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
বিশেষ করে অসংখ্য নাটকে মায়ের চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল।
‘আবির্ভাব’ সিনেমায় তার লিপে থাকা ‘সাতটি রঙের মাঝে আমি নীল খুঁজে না পাই…’ গানটি আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দেড় শতাধিক সিনেমা ও ৪ শতাধিক নাটকে অভিনয় করে তিনি রেখে গেছেন উজ্জ্বল এক শিল্পীসত্তার স্বাক্ষর।
শর্মিলী আহমেদ ১৯৬৪ সালে অভিনয়জীবন শুরু করেন।
জন্মদিনে তাকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের কাছে স্মৃতিচারণ করেছেন সহশিল্পীরা।
অভিনেত্রী ডলি জহুর বলেন, আমাদের দুজনের স্মৃতির শেষ নেই। শত শত স্মৃতি। এত ভালো মানুষ ছিলেন। এমন ভালো মানুষ পাব না। এমন বড় মনের মানুষ পাওয়া কঠিন। সবাইকে আপন করে নেওয়ার প্রচণ্ড ক্ষমতা ছিল শর্মিলী আহমেদের।
তিনি বলেন, আমি তাকে দিদি ডাকতাম। আমার সিনিয়র ছিলেন। তার বাড়ি ছিল রাজশাহীতে। একবার রাজশাহীতে দিদির বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন। আমাকে মেয়ের চোখে দেখতেন। রাজশাহীতে যাওয়ার পর সবাই আপন করে নিয়েছিল আমাকে।
‘দিদির গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। গুণী শিল্পী ছিলেন তিনি। অসম্ভব ভালো মানুষ ছিলেন। তার হাতের রান্না অনেক খেয়েছি। নিজে রান্না করে আমার জন্য পাঠাতেন। যদি তিনি আসতে না পারতেন, তাহলে কাউকে দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিতেন। ফোনেও কথা হতো আমাদের। মাঝে মাঝে দেখা হতো। আজ দিদি নেই, ভাবতেই কষ্ট লাগে’, বলেন তিনি।
অভিনেত্রী দিলারা জামান বলেন, শর্মিলী আহমেদ আমাকে বুবু ডাকতেন। আমার খুব ভালো লাগত তার মুখ থেকে ‘বুবু’ ডাক শুনে। মানুষ হিসেবে এতটাই ভালো ছিলেন, বলে শেষ করা যাবে না। অভিনয়গুণ নিয়ে অন্যরা বলবেন, কেননা অসম্ভব গুণী শিল্পী ছিলেন। আমি শুধু বলব একজন ভালো মানুষকে নিয়ে। সেই ভালো মানুষ বোনটা আমার নেই, ভাবতেই খারাপ লাগে।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক ছিল। কত কথা মনে পড়ে। কত স্মৃতি আমাদের। অভিনয় জীবন ছাড়াও পারিবারিকভাবে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল আমাদের মধ্যে। সবসময় মনে হতো, আমার আরেকটা বোন তিনি। ক্যানসার ধরা পড়ার পর ভেঙে পড়েছিলেন। তখন সাহস দিতাম। এভাবে চলে যাবেন, ভাবিনি।
নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, শর্মিলী আহমেদ অসম্ভব মেধাবী শিল্পী ছিলেন। মঞ্চ নাটক, টিভি নাটক, চলচ্চিত্র, তিন মাধ্যমেই সফল ছিলেন। একটা সময় মায়ের চরিত্রে এতটাই সাবলীল ছিলেন, দর্শকরাও তাকে মা হিসেবে দেখতেন।
তিনি আরও বলেন, একসময় ক্যানসার ধরা পড়ে, তারপর তিনি চলেই গেলেন। শিল্পীর জীবনে কর্মটাই সব। তার কর্মই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। অনেক ভালো ভালো কাজ তিনি উপহার দিয়ে গেছেন।
বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত বলেন, শর্মিলী আহমেদ খুব মেধাবী শিল্পী ছিলেন। পারিবারিকভাবেই তিনি বেড়ে উঠেছিলেন সুন্দর পরিবেশে। শিল্পীমনা পরিবার ছিল তার। আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে অভিনয় করেছি।
তিনি বলেন, এমন ভালো মানুষ কমই পেয়েছি। তার ব্যবহার ছিল চমৎকার। মানুষকে সম্মান করতেন। তিনিও সবার কাছ থেকে সম্মান পেয়েছেন। বড় কথা হচ্ছে, শর্মিলী আহমেদ গুণী শিল্পী ছিলেন। বিনয়ী শিল্পী ছিলেন। তার সঙ্গে অভিনয় করার কথা ভুলব না।
২০২২ সালের ৮ জুলাই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন শর্মিলী আহমেদ। তবে তার অসংখ্য স্মরণীয় কাজ আজও তাকে দর্শকের হৃদয়ে জীবন্ত করে রেখেছে।