মোনাকোর কাছে বিধ্বস্ত মেসিবিহীন পিএসজি

স্পোর্টস ডেস্ক

শারীরিক অসুস্থতার কারণে লিওনেল মেসি খেলতে না পারলেও শুরুর একাদশে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে ও নেইমার। তবে প্রতিপক্ষের মাঠে রীতিমতো বিবর্ণ পারফরম্যান্স দেখাল পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা পিএসজি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণের ধারা বজায় রেখে তাদেরকে চাপে রাখল মোনাকো। দাপুটে ফুটবল খেলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে তারা পেল দারুণ জয়।

রোববার নিজেদের ডেরায় ফরাসি লিগ ওয়ানের ম্যাচে পিএসজিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মোনাকো। স্বাগতিকদের পক্ষে জোড়া গোল করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড উইসাম বেন ইয়েদার। মাঝে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন বদলি নামা জার্মান ফরোয়ার্ড কেভিন ভোলান্ড।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ চার ম্যাচে প্যারিসিয়ানদের এটি তৃতীয় হার। লিগে গত ম্যাচে বোর্দোকে নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে গুঁড়িয়ে জয়ের দিশা পেয়েছিল তারা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চাপের মধ্যে থাকা দলটির স্বস্তি উবে যেতে বেশি সময় লাগল না। পিএসজির কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও পড়লেন বিপাকে। একের পর এক বাজে পারফরম্যান্সে তার বরখাস্ত হওয়ার গুঞ্জন জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হলো।

বল দখলে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও গোলমুখে শট নেওয়ায় সমানে সমান ছিল দুই দল। ১৩টি করে শট নেয় তারা। তবে মোনাকো আটটি লক্ষ্যে রাখার বিপরীতে পিএসজি রাখে ছয়টি। ছন্দে থাকা ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপে পারেননি নিজেকে মেলে ধরতে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে।

ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে মোনাকোর সামনে। প্রেসনেল কিম্পেম্বে ঠিকঠাকভাবে বল বিপদমুক্ত করতে না পারলে পেয়ে যান ইউসুফ ফোফানা। তার নিচু শট রুখে দেন জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। দুই মিনিটের ব্যবধানে সতীর্থের কর্নার থেকে বেন ইয়দারের হেডও রুখে দেন পিএসজি গোলরক্ষক। দশম মিনিটে একরকম নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় মোনাকো। প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুলে পাওয়া বল জ্যাঁ লুকাস জালে পাঠানোর পথেই ছিলেন। শেষ মুহূর্ত অসাধারণ এক ব্লক করেন মার্কুইনোস।

২৫তম মিনিটে দর্শনীয় এক গোলে অবসান হয় মোনাকোর অপেক্ষার। ডান প্রান্ত দিয়ে ত্বরিত গতিতে আক্রমণে ওঠেন ফোফানা। তার পাস পেয়ে ব্যাক হিল শটে  দোন্নারুমাকে পরাস্ত করেন বেন ইয়েদার। পিছিয়ে পড়ার পর ৩১তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় পিএসজি। নেইমারের বাঁকানো ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক অ্যালেক্সান্ডার নুবেল। দশ মিনিট পর ফোফানার শট দোন্নারুমা লুফে নিলে ব্যবধান বাড়েনি মোনাকোর। তিন মিনিট পর এমবাপের পাসে আশরাফ হাকিমির শট ফাঁকি দিতে পারেনি নুবেলকে।

বিরতির পর খেলা শুরু হলে পিএসজি গা ঝাড়া দিয়ে খেলতে থাকে। ৫১তম মিনিটে এমবাপের শট গোলমুখ থেকে ফেরান ডিফেন্ডার বেনোয়া বাদিয়াশিল। ৬৪তম মিনিটে সতীর্থের কর্নারে অরক্ষিত কিম্পেম্বের হেড চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে। কিন্তু চার মিনিট পরই জোর ধাক্কা খায় পচেত্তিনোর শিষ্যরা। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারলেও রুবেন আগুইলারের ক্রসে শট নেন ভোলান্ড। ইতালিয়ান তারকা দোন্নারুমা পারেননি বল আটকাতে।

৭৩তম মিনিটে হাকিমকে ফের হতাশ করেন নুবেল। ছয় মিনিট পর বদলি মাউরো ইকার্দিকেও সফল হতে দেননি তিনি। ৮৪তম মিনিটে নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির বড় হার। সফল স্পটকিকে নিশানা ভেদ করেন বেন ইয়েদার। ১৭ গোল নিয়ে লিগের গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠলেন তিনি। ভোলান্ডকে ডি-বক্সে কিম্পেম্বে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।

হারলেও লিগ ওয়ানের পয়েন্ট তালিকার এক নম্বর জায়গাটা ধরে রেখেছে পিএসজি। ২৯ ম্যাচে ২০ জয় ও ৫ ড্রয়ে তাদের অর্জন ৬৫ পয়েন্ট। শিরোপা পুনরুদ্ধারের দৌড়ে অনেকটা ব্যবধানে এগিয়ে আছে ক্লাবটি। সমান ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রয়েছে রেঁনে। সাতে থাকা মোনাকোর পয়েন্ট ২৯ ম্যাচে ৪৪।