রিগ্যানের ভয়াল স্মৃতি তাড়া করল ট্রাম্পকে?
ইতিহাসের এক অদ্ভুত পুনরাবৃত্তি ঘটল ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে। ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ এই হোটেল প্রাঙ্গণেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছিল।
গতকাল শনিবার রাতে সাংবাদিকদের নৈশভোজে গুলিবর্ষণের পর ট্রাম্পকে যখন একই হোটেল থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন ইতিহাসের সেই ঘটনার সঙ্গে এক বিস্ময়কর মিল পরিলক্ষিত হয়। তবে ট্রাম্পই প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু ছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটন হিলটনে হামলা চালানো ব্যক্তিটি ছিল একজন ‘সম্ভাব্য আততায়ী’। তাকে ‘লোন উলফ’ বা বিচ্ছিন্ন হামলাকারী হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আটককৃত ওই ব্যক্তির কাছে একাধিক অস্ত্র পাওয়া গেছে।

সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ট্রাম্প জানান, তাদের তৎপরতায় হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তির মূল লক্ষ্য ও মোটিভ নিয়ে তদন্ত চলছে।
এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, তিনি নিজে, ফার্স্ট লেডি এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা সুরক্ষিত আছেন।

ইতিহাসে সেই দিন
১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ এই একই হোটেলে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেদিন জন হিঙ্কলি জুনিয়র রিগানকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি ছোড়েন। রিগান তখন ‘এএফএল-সিআইও’র সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য শেষ করে তার লিমুজিন গাড়িতে ফিরছিলেন।
একটি বুলেট প্রেসিডেন্টের লিমুজিন গাড়ির পাশে লেগে ছিটকে আসে এবং তার বুকে ও শরীরের উপরিভাগে আঘাত করে। এতে তার একটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং একটি ফুসফুস ফুটো হয়ে যায়।
সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা রিগানকে দ্রুত একটি গাড়িতে তুলে পার্শ্ববর্তী জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসারত অবস্থায় রিগান তার চমৎকার রসবোধের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ১১ এপ্রিল তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
১৯৮১ সালের ওই ঘটনায় আরও তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডি।

ব্র্যাডির চোখে গুলি লেগেছিল এবং তিনি মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতির শিকার হন, যা তাঁকে বাকি জীবনের জন্য পঙ্গু করে দেয়। অবশেষে ২০১৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার মৃত্যুকে ১৯৮১ সালের ওই গুলির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করে।
অভিযুক্ত হিঙ্কলিকে মানসিক অসুস্থতার যুক্তিতে রিগানকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। আইনজীবীরা তার ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ এবং অভিনেত্রী জোডি ফস্টার ও ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ সিনেমার প্রতি তার চরম মোহকে এই হামলার অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।
হিঙ্কলিকে ২০১৬ সালে মুক্তি দেওয়ার আগ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সেন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে কড়া নিরাপত্তায় বেষ্টিত একটি বিভাগে বন্দি রাখা হয়েছিল। এই ইতিহাসের কারণে স্থানীয়রা হোটেলটিকে ‘হিঙ্কলি হিলটন’ নামে ডাকেন এবং হোটেলের এক পাশে থাকা একটি ফলক এখনও সেই গুলিবর্ষণের ঘটনার স্মৃতি বহন করছে।


