ফ্রান্সে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের পাশে গ্রেটা থুনবার্গ
ফরাসি উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবারও ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ প্যারিসের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেন সুইডেনের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সজুড়ে এই আন্দোলন শুরু হয়। এ পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা মিছিল করেছেন, শত শত স্কুল অবরোধ করেছেন এবং অনেক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন।
আজ সকালে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরের বেশ কয়েকটি স্কুলের গেটে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও মেগাফোন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। দুপুরের পর মিছিলের পরিকল্পনাও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, আজও প্রায় ২০০টি উচ্চবিদ্যালয় বন্ধ আছে।
কিশোর বয়সে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে পরিচিতি পাওয়া গ্রেটা থুনবার্গ এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীরা আরও ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার যোগ্য।’
প্যারিসের সাঁ-দেনিতে লিসে পল এলুয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তাদের জানা উচিত, সারা বিশ্বের মানুষ এই ঘটনার ওপর নজর রাখছে। নিজেদের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবিতে সোচ্চার তরুণদের দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না দেওয়া, জলবায়ু সংকট কিংবা সামাজিক অবিচারের সংকট—যে সমস্যাই হোক না কেন, এখনই তরুণদের এগিয়ে আসার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার সময়।’
বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে থুনবার্গ বলেন, পুলিশ ‘অত্যন্ত সহিংস’ আচরণ করেছে। তাদের এই আচরণে প্রমাণ হয়েছে, ‘কর্তৃপক্ষ চায় না বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হোক। তারা একইসঙ্গে তরুণদের দাবিগুলোও উপেক্ষা করছে’।
বিভিন্ন ঘটনায় দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে এবং তাদের ওপর চড়াও হয়েছে। এতে শত শত মানুষ আহত হয়েছেন এবং হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ নিয়ে ফ্রান্সজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।

