ঘুমানোর আগে যে কাজগুলো করা উচিত নয়
‘রাতে আমার ভালো ঘুম হয় না’—এই কথাটি আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের বা আশপাশের মানুষের কাছ থেকে প্রায়ই শুনে থাকি। রাতে একটি ভালো ঘুম সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে, কর্মউদ্দীপনা ধরে রাখতে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিনের জীবনযাত্রার অনেক কিছুই নির্ভর করে রাতে আপনার ঠিক কতটা ভালো ঘুম হয়েছে তার ওপর।
যাদের রাতে ভালো ঘুম হয় না, তাদের জীবনযাত্রা একটু পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, তাদের এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে যা অজান্তেই তাদের বিশ্রাম ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
ঘুমানোর আগে যেসব কাজ করা উচিত নয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সীফাত জাহান শশী।
স্ক্রিনটাইম
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ই-রিডার বা টিভি দেখা উচিত নয়। ঘুমানোর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ঘুমানোর সময় স্মার্টফোন কাছে না রেখে দূরে রাখতে হবে। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো আমাদের শরীরে মেলাটোনিনের (এটি এক ধরনের হরমোন, যা শরীরকে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে সাহায্য করে) নিঃসরণ কমিয়ে দেয়।
ওষুধ সেবন
কিছু ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে অনেক সময় চিকিৎসকেরা ঘুমের ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে তা সাধারণত খুব স্বল্প সময়ের জন্য। যে কারণে ঘুমের সমস্যা হয়, ঘুমের ওষুধ সেই মূল কারণগুলো দূর করে না। ওষুধ সেবনের ফলে যদি আপনার ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে এ বিষয়ে পরামর্শ নিন।
বন্ধুদেরকে টেক্সট পাঠানো
রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া অনেকেরই অভ্যাস। আপনি হয়তো টেক্সট পাঠিয়ে একসময় ঘুমিয়ে পড়লেন, কিন্তু আপনার বন্ধু পরে তার উত্তর পাঠালেন। রাতে ঘুমানোর সময় পাশে রাখা ফোনে আসা নোটিফিকেশন আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই রাত জেগে এই অভ্যাস পরিহার করার পাশাপাশি রাতে ফোন মিউট করে রাখা বা অন্য ঘরে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
চা ও কফি পান
কফিতে থাকা ক্যাফেইন আমাদের শরীরে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত থেকে যায় এবং ঘুমকে ব্যাহত করতে পারে। চা বিশেষ করে ব্ল্যাক, গ্রিন ও হোয়াইট টিতেও ক্যাফেইন থাকে। তাই ঘুমের সময়ের কথা বিবেচনা করে চা ও কফি পান করা উচিত।
চকোলেট
চকোলেট, বিশেষ করে ডার্ক চকোলেটে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে। এ ছাড়া এতে থিওব্রোমাইন নামক এক ধরনের স্টিমুলেন্ট থাকে, যা হৃৎস্পন্দন বাড়াতে পারে এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
কাজ সেরে সরাসরি ঘুমাতে যাওয়া
অনেকেই কাজকর্ম শেষ করে সামান্য বিশ্রাম না নিয়েই সরাসরি ঘুমাতে যান। ভুলটা সেখানেই হয়। এর ফলে কাজের চিন্তা বা কাজের রেশ মন থেকে পুরোপুরি দূর হয় না। তাই কাজ শেষে অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে তারপর ঘুমাতে যাওয়া উচিত। এটি শরীর ও মন—উভয়কেই ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।
মেইল চেক করা
ঘুমাতে যাওয়ার আগে অনেকেই কাজসংক্রান্ত মেইল চেক করেন। এর ফলে এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং মন কাজের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে শুরু করে। ঘুমাতে গেলেও সেই চিন্তাগুলো মাথায় ঘুরতে থাকে। ফলে ভালো ঘুম হয় না।
ঝাল বা চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ
রাতের বেলা অতিরিক্ত ঝাল বা চর্বিযুক্ত খাবার খেলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা হতে পারে। এসব কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।
ধূমপান
ধূমপান ঘুমের সমস্যার একটি কারণ হতে পারে। এতে নিকোটিন নামক এক ধরনের স্টিমুলেন্ট থাকে, যা আমাদের জাগ্রত রাখে। ঘুমানোর আগে ধূমপান করলে ইনসমনিয়া সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।


