শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যার নেপথ্যে কী, এজাহারে যা আছে

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বসিলা পশুর হাট নিয়ে বিরোধের জেরে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গতকাল রাতে টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আজ বুধবার সকালে মামলা করেন বড়ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন।

নিউমার্কেট থানায় করা এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে, অভিযোগে বসিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান ও রনি ওরফে ডাগারি রনির সঙ্গে বিরোধের উল্লেখ করা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানান দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় শহীদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন রাস্তায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন টিটন।

পুলিশ জানায়, ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে ছিলেন টিটন। দীর্ঘদিন জেলে থাকা টিটন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হন।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সন্ত্রাসীদের কেউ তাকে হত্যা করেছেন।

টিটনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, বসিলা পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের ধারণা।

এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘসময় কারাভোগের পর গত বছরের ১৩ আগস্ট টিটন জামিনে মুক্তি পান। এরপর মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতীতে পরিবারের সম্মানহানি ও আর্থিক ক্ষতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং সৎ পথে জীবন গড়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।

কয়েকদিন আগে টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন, তিনি হাটের ইজারা সংক্রান্ত কাগজপত্র (শিডিউল) কিনেছেন এবং ব্যবসা করতে চান।

২৬ এপ্রিল টিটন তার ভাইকে জানান, বসিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে পিচ্চি হেলাল, বাদল, শাহজাহান ও রনির সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। পরদিন ২৭ এপ্রিল জানান, বিরোধ মিটিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য তাকে একটি মিটিংয়ে ডাকা হয়েছে।

এরপরেই গতকাল রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, নিউমার্কেটের শাহনেওয়াজ হলের সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টিটনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টিটন হেঁটে বটতলা এলাকা থেকে নিউমার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের গেটের কাছে একটি মোটরসাইকেলে দুইজন অপেক্ষা করছিলেন। টিটন আসতেই একজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা এগিয়ে গিয়ে মাথায় আরেকটি গুলি করে। সেসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী তাদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পরে মোটরসাইকেলে তারা পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের মাথায় টুপি ও মুখে মাস্ক ছিল।

গুরুতর আহত অবস্থায় টিটনকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে টিটনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্থানীয় গ্যাং সদস্য হিসেবে টিটন অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটান এবং অস্ত্র চোরাকারবারের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। 

ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যাকাণ্ডসহ বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে ঢাকা সেনানিবাস এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তিনি মৃত্যুদণ্ড সাজা পান।