শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামির ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণার কথা ছিল।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে সময় আবেদন করা হলে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক আদালতকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর রায় ঘোষণার জন্য আদালতের কাছে আরজি জানান তিনি।

গত ১১ আগস্ট হাইকোর্টের এই বেঞ্চ বিষয়টির ওপর শুনানি শুরু করেন। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে আজ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

এর আগে গত বছরের ৩০ জুন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. হিটু শেখের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে হিটু শেখকে করা এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশও স্থগিত করেন বেঞ্চ।

গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে হিটু শেখকে (৪৪) মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় হিটুর স্ত্রী জাহেদা বেগম (৩৮) এবং দুই ছেলে রাতুল শেখ (১৮) ও সজীব শেখকে (২০) খালাস দেন আদালত। হিটু শেখ আছিয়ার বড় বোনের শ্বশুর।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১ মার্চ শিশু আছিয়া মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী মাঠপাড়ায় তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। ৬ মার্চ ভোরে সেখানে সে ধর্ষণের শিকার হয়। ওই দিনই গুরুতর অবস্থায় তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই দিনই ফরিদপুর থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরদিন রাতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ৮ মার্চ শিশুটিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ সে মারা যায়।

এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু, জাহেদা, সজীব ও রাতুলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেছিলেন।