নিকলীতে ১০ বছর পর নৌকাবাইচ, মানুষের উচ্ছ্বাস
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কামালপুর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী রহিমা খাতুন ১২ বছরের নাতি মোস্তফাকে নিয়ে চৈল্যাতির হাওরে এসেছিলেন নৌকাবাইচ দেখতে। ছোট একটি ডিঙি নৌকায় দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে তারা এই উৎসব উপভোগ করেন।
রহিমা খাতুন বলেন, ‘আগে নিকলীতে প্রতিবছর নৌকাবাইচ হলেও গত ১০ বছরে এখানে আর কোনো বাইচ হয়নি। আমার নাতি মোস্তফা জীবনে কোনো দিন নৌকাবাইচ দেখেনি বলে খুব বায়না ধরেছিল। তাই নৌকা ভাড়া করে আরও কয়েকজন নারী ও শিশুকে নিয়ে বাইচ দেখতে এসেছি। এত বছর পর নৌকাবাইচ দেখে মনটা ভরে গেল।’
শুধু রহিমা খাতুন নন, ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ঘিরে নিকলী ও আশপাশের হাজারো মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।
গতকাল বুধবার বিকেলে নিকলীর চৈল্যাতির হাওরে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিকলী নাগরিক কমিটি। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১২টি নৌকা অংশ নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নৌকাবাইচ উপভোগ করতে দুপুর থেকেই শত শত ছোট-বড় নৌকা নিয়ে হাওরের দুই প্রান্তে ভিড় জমাতে থাকেন উৎসুক মানুষেরা। মানুষের উপচে পড়া ভিড়, আনন্দ-উল্লাস আর বাদ্যের তালে চারপাশে উৎসব চলে। গোটা উপজেলা জুড়েই ছিল উৎসবের আমেজ।
বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্বের এই নৌকাবাইচ শেষ হয় সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে।
প্রতিযোগিতায় বড় নৌকা ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে নিকলী সদর ইউনিয়নের ইসরাফিল মাঝির নৌকা। ইটখলা সর্দার গ্রুপের মজিবুল্লাহ মিয়ার নৌকা হয় দ্বিতীয়। প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি ফ্রিজ এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ছিল ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন।
ছোট নৌকা ক্যাটাগরিতে প্রথম হয় করগাঁও ইউনিয়নের পাচলীপাড়ার নৌকা এবং দ্বিতীয় হয় নিকলী সদরের গোবিন্দপুরের মোবারক মিয়ার নৌকা। ছোট নৌকার প্রথম বিজয়ীকে ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন এবং দ্বিতীয় বিজয়ীকে একটি স্মার্টফোন দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাকি নৌকাগুলোকে দেওয়া হয় সান্ত্বনা পুরস্কার।
নৌকাবাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। তিনি বলেন, ‘গ্রামবাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছে। চৈল্যাতির হাওরে এত বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী দেখে ভালো লাগছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার ও যুবদলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন।