নারায়ণগঞ্জে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুপক্ষের হাতাহাতি
নারায়ণগঞ্জে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
দুপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন। অন্যদিকে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির রয়েছেন অপর গ্রুপে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী ও সাংবাদিকরা জানান, দুপক্ষের আইনজীবীরা সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কক্ষে দুপুরের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আসন্ন নির্বাচন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা সুমন মিয়াকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে আপত্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন স্থানান্তর নিয়ে উভয়পক্ষের আলোচনার একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা দুপক্ষে বিভক্ত হয়ে একে অপরকে কিল-ঘুষি মারছেন। বিশৃঙ্খলার সময় নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনকে রক্ষা করতে তার দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকেও বেগ পেতে দেখা যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, সামনে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার মতো ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের বোঝানো হলে ঘটনা আর বেশি বাড়েনি।
এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা আমাদের দিকে তেড়ে এসে হামলা চালান। সাখাওয়াত তার লোকজন নিয়ে আমাদের গালিগালাজ করেন। অ্যাডিশনাল পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করেন। পরে আমরা প্রতিবাদস্বরূপ তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখি।
অন্যদিকে, সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যরা আমার রুমে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। পাশের রুম থেকে সেক্রেটারির লোকজন উসকানিমূলক বাজে আওয়াজ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আমার মনে হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই হয়তো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। তাদের চেয়ে আমরা সবাই সিনিয়র। সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়ররা এভাবে আচরণ করবে, এটা ঠিক নয়।
এ বিষয়ে জানতে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনকে ফোন করা হলে অপরপ্রান্ত থেকে একজন জানান, তিনি বিশ্রামে আছেন।