চাঁদা দাবির অভিযোগ, বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বান্দরবান-থানচি মালিক সমিতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান

বান্দরবান-থানচি সড়কে টানা দুই দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে এ রুটের বাস মালিক সমিতি। তাদের দাবি, সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছে।

আজ সোমবার সমিতি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা চালকদের ওই সড়কে গাড়ি চালাতে নিষেধ করেছেন। নির্দেশ অমান্য করলে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

নুরুল আলম আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি সমাধানে আলোচনায় বসতেও রাজি নয় ওই গোষ্ঠী।

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’

বাসচালক, সহকারী ও সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, সড়কটিতে বাস চলাচল অব্যাহত রাখার অনুমতি দিতে বাসমালিক ও চালকদের কাছে বছরে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

সমিতির ভাষ্য, এ বিষয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও কোনো সমাধান হয়নি।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত তিন মাস ধরে বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল, তবে তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের চাঁদের গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে তাদের।

বান্দরবান থেকে কোনো বাস না পেয়ে চাঁদের গাড়িতে ফিরেছেন থানচির বাসিন্দা মংচিং নুং মারমা। তিনি বলেন, ‘আগে বাসভাড়া ছিল ৩২০ টাকা। এখন যাতায়াত করতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে।’

ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থানচি ফেরার সময় ভোগান্তিতে পড়েন বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী চন্দ্র মণি ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘বাস না পেয়ে অন্যদের সঙ্গে একটি গাড়ি ভাগাভাগি করে আসতে হয়েছে।’

এ বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাস মালিকদের কাছে চাঁদা দাবির জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নম্বরের সূত্র ধরে চাঁদা দাবিকারীদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত করছে পুলিশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড়ে সক্রিয় কোনো সংগঠনের সদস্যরা এসব চাঁদা দাবি করছেন, নাকি সমতলের কোনো এলাকা থেকে চাওয়া হচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বাস চলাচল বন্ধ প্রসঙ্গে এসপি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’