তপ্ত গরমে নাহিদের গতির ঝাঁজে বিস্মিত কিউই ব্যাটার
বৈশাখের দুপুরে সূর্যের কড়া ঝাঁজে হাঁসফাঁস করার মতো অবস্থা। এমন আবহাওয়ায় ব্যাটার ও ফিল্ডারদের রোদের নিচে মাঠে থাকাই বেশ কষ্টকর। সেখানে একজন পেস বোলারের জন্য চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি। তবে বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানাকে যেন সেসব স্পর্শ করল না, তিনি সব চ্যালেঞ্জ জিতলেন দাপট দেখিয়ে। প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিয়ে হলেন দলের নায়ক। তার এমন সামর্থ্যে বিস্মিত নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা নিক কেলি।
প্রথম ওয়ানডেতে খরুচে বল করেছিলেন নাহিদ। ১০ ওভারে দিয়েছিলেন ৬৫ রান। সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে তাকে পাওয়া গেল স্বরূপে। এবার ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিনি শিকার করলেন ৫ উইকেট। নিউজিল্যান্ড যে দুইশ ছাড়াতে পারল না তার বড় কারণ নাহিদ।
মন্থর উইকেট ও প্রচণ্ড গরমের কন্ডিশনে বাউন্স আর গতিতে বারবার পরাস্ত করেন কিউইদের। ইনিংসের প্রথম বলটা করেছিলেন ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার গতিতে, শেষ বলটা করলেন ১৪৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে। এই গরমে লম্বা সময় ফিল্ডিং করেও তার গতি কমেনি একটুও। বৈধ ৬০টি ডেলিভারি করেন ১৪০ কিলোমিটারের উপরে।
নাহিদের গতি আর উইকেট নেওয়া খুব কাছ থেকে দেখেছেন কেলি। বাকিদের ব্যর্থতার মাঝে ১০২ বলে ৮৩ রান করেন তিনি। ক্রিজের এক পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন সতীর্থদের নাহিদের বলে কাবু হওয়া। ১৯৮ রানে গুটিয়ে বাংলাদেশের কাছে ৬ উইকেটে হারার পর নাহিদকে প্রশংসায় ভাসালেন কেলি।
নাহিদের সামর্থ্য দেখে বিস্মিত কেলি, ‘হ্যাঁ (বিস্মিত কি না), আমি বেশ কিছু সময় ব্যাট করেছি আজ, কল্পনাই করতে পারছি না এই গরমে কেউ এরকম ছুটে এমন গতিতে বল করছে। আজ খুব, খুব গরম ছিল। সে প্রথম বল থেকেই ভালো গতিতে বল করেছে এবং তার শেষ বলটাও ছিল ১৪৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে। চার ঘণ্টা এই সূর্যের নিচে থেকে এমন সামর্থ্য দেখানো, এরকম গতিতে বল করা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।’
নাহিদ উইকেটগুলোও নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ধাপে। যখন ব্রেক-থ্রু আনা দরকার তখনই এসে কিউইদের লাগাম টেনে ধরেছেন। তিনটি আলাদা স্পেলে প্রথম ওভারেই নিয়েছেন উইকেট। কেলি ব্যাখ্যা করলেন গত ম্যাচে রান বেশি দিলেও ভালো ছিলেন নাহিদ, ‘আমার এখনো মনে হয় গতদিনও সে দারুণ বল করেছে, সম্ভবত সেভাবে পুরস্কার পায়নি। আর আজ উইকেটে কিছুটা ঘাস এবং বাড়তি গতি ছিল, তাই স্টাম্প লক্ষ্য করে আক্রমণ করে অথবা বাড়তি গতি ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করে সে তার পুরস্কার পেয়েছে।’