নাহিদের প্রতিনিয়ত শেখার তাড়না দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন মুশফিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে

দুরন্ত গতি দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেকটা আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন নাহিদ রানা। কদিন আগেই মিরপুরে দুর্দান্ত এক স্পেলে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দলকে টেস্ট জিতিয়েছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবে আলোচনার মূল কেন্দ্রে এখন তাঁদের নাম। তবে নাহিদের আজকের অবস্থানে আসার পেছনের কারণ সম্পর্কে কিছু ধারণা দিলেন মুশফিকুর রহিম। এই তরুণকে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে চেনার অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন পেছনের গল্প।

নাহিদ ও মুশফিক দুজনেই রাজশাহী বিভাগের। জাতীয় ক্রিকেট লিগেও (এনসিএল) তাই একই দলে খেলছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মুশফিক সিলেটের হয়ে এনসিএল খেললেও আগে নিজ বিভাগেই খেলতেন।

২০২০ সাল পর্যন্ত টেনিস বলে খেলা নাহিদের প্রথম শ্রেণির অভিষেক হয় ২০২১ সালে। উচ্চতা আর গতি দিয়ে শুরুতেই নজর কাড়েন তিনি। তবে প্রতিভা অনেক সময় পরিচর্যা ও দিক নির্দেশনার অভাবে পায় না পূর্ণতার ঠিকানা। অনেক তরুণ নিজের সামর্থ্য নিয়েও থাকেন না সচেতন।

অভিজ্ঞ মুশফিক নাহিদের উঠে আসা দেখেছেন কাছ থেকে। রাজশাহী বিভাগীয় দলের ড্রেসিংরুমে নাহিদের শেখার তাগিদ, নিজেকে তৈরি করার তাড়না দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি, 'নাহিদ সম্পর্কে যদি বলি, ওকে আমি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট (এনসিএল) থেকেই চিনি। আমি রাজশাহীতে যখন শেষবার খেলেছিলাম—গত দুই বছর অবশ্য সিলেটে খেলি, তবে রাজশাহীতে শেষ যে বছর খেলেছিলাম, আমি চারটা চারদিনের ম্যাচ খেলেছিলাম। তখনই আমি রানাকে দেখেছি। কাছ থেকে ওকে দেখা ও ওর সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছে। তখন থেকেই ওর একটা জিনিস আমার খুব ভালো লেগেছিল যে জানার আগ্রহ। আমি জানতাম যে ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অবশ্যই খেলবে।'

মুশফিক জানালেন নাহিদ তখন থেকেই নির্দ্বিধায় নিজের ঘাটতি, সম্ভাবনা ও পথচলার পরামর্শ চাইতেন সিনিয়রদের কাছে, ‘ওর শেখার যে আগ্রহ বা নিজেকে উন্নত করার যে ইচ্ছা, সেটা সাধারণত কোনো তরুণ খেলোয়াড়ের মধ্যে খুব কম থাকে। আবার কারো হয়তো থাকে, কিন্তু সে হয়তো নিজে থেকে সেটা বলতে চায় না বা একটু সংকোচবোধ করে। তবে ওর ক্ষেত্রে দেখেছি যে ও কখনো এটা করত না। ও আমাকে কিংবা তখন ওখানে ফরহাদ ভাই (ফরহাদ হোসেন), জুনায়েদ সিদ্দিক, (জহুরুল ইসলাম) অমি ভাই ছিলেন—এমন অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় ছিলেন, সবসময় তাদের কনস্ট্যান্টলি পুশ করত। ও জানতে চাইত, "ভাই, আমি রান আপটা এমন করলে কী হয়?" বা "এটা কী করলাম?", "লাইফস্টাইলটা কেমন হওয়া উচিত?"—এই ধরনের প্রশ্ন করত। একজন তরুণ প্লেয়ারকে দেখে আমি সত্যিই সারপ্রাইজড হয়েছিলাম এবং সেটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছিল।’