সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে ফিরছেন নরিকিয়া, সামনে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন আনরিক নরিকিয়া। তবে কেবল অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই থেমে থাকা নয়, টেস্টে এই ফেরাকে দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিডস্টারের। অস্ট্রেলিয়ার পরপরই বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজেও তাকে পাওয়া যাবে।
২০২৩ সালের মার্চের পর আর সাদা পোশাকে নামা হয়নি নরিকিয়ার। আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানের কিংসমিডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজ শুরু হচ্ছে, যার জন্য ঘোষিত ১৮ সদস্যের প্রাথমিক দলে রয়েছেন ১৯ টেস্টে ৭০ উইকেট নেওয়া এই পেসার।
ফিরতি সিরিজের আগমুহূর্তে নরিকিয়া জানালেন, এই প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি তিনি শুরু করেছিলেন বহু আগে থেকেই। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে আমার মূল নজর ছিল লাল বলের ক্রিকেটের দিকে। দক্ষতা বাড়ানো, ধারাবাহিকভাবে বোলিংয়ের কাজের চাপ সামলানো এবং সঠিক উপায়ে নিজের ওভার বাড়িয়ে নেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি।’জাতীয় দলের বোলিং কোচ পিট বোথার পরামর্শে নিজের উদ্যোগেই এই কাজগুলো গুছিয়ে এনেছেন তিনি। নরিকিয়া আরও যোগ করেন, ‘আমার রান-আপ ও অ্যাকশনের কোথায় কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে, তা বের করতে হয়েছে। কোচ পিটের সংগেও এ নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। বোলিং অ্যাকশনকে কীভাবে আরও নিখুঁত, শক্তিশালী, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করা যায়, তা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করছিলাম। কাজগুলো ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য ভিডিও পাঠাতাম কোচ পিটের কাছে।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম নির্ভরযোগ্য বোলার নরিকিয়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮টি উইকেট (২১ ম্যাচে) নেওয়ার কীর্তি তার। সামগ্রিকভাবে ৪৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২১.১৯ গড়ে তার মোট উইকেট ৫৬টি।২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সেরা সাফল্য এনে দিয়েছিলেন নরিকিয়া, যার সৌজন্যে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো দক্ষিণ আফ্রিকানের জন্য এটিই এখন পর্যন্ত সেরা বোলিং ফিগার।
তবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সাফল্য পেলেও নরিকিয়া স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, তার মূল ভালোবাসা টেস্ট ক্রিকেটেই। নরিকিয়া বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কঠিন মুহূর্তগুলোর কথা খুব একটা ভাবতে হয় না। সেখানে কেবল নিজের দক্ষতা প্রয়োগের চিন্তা থাকে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে কঠিন সময়, ভালো সময় এবং কঠোর পরিশ্রমের কথা মাথায় রাখতে হয়, যা একটা সেশন পার করতে সাহায্য করে।’
‘আবার যদি টেস্ট ক্যাপ মাথায় তুলতে পারি, তবে সেটা হবে দারুণ রোমাঞ্চকর। ছোটবেলা থেকে এটাই সেই ফরম্যাট, যা সবাই খেলতে চায়। অনুশীলনের পেছনে মূল অনুপ্রেরণাই থাকে টেস্ট ক্রিকেট।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ নরিকিয়ার কাছে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে কেবল একটি টেস্ট সিরিজে খেলেছিলেন তিনি, যেখানে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সিরিজের তিনটি ম্যাচেই খেলে মোট ৭টি উইকেট পেয়েছিলেন নরিকিয়া।
স্মৃতিচারণ করে নরিকিয়া বলেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে সবসময়ই বলতাম, অস্ট্রেলিয়া যখন আমাদের দেশে আসবে, তখন হিসাব চুকিয়ে নিতে হবে। সফরটা কঠিন ছিল, তবে অনেক কিছু শিখেছি ও উপভোগ করেছি। কিন্তু ওদেরকে দেশের মাটিতে পেয়ে ভালো কিছু করার ইচ্ছাই এখন মাথায় ঘুরছে।’
৯ অক্টোবর থেকে ডারবানে শুরু হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলয়ার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরপর আগামী ১৫ নভেম্বর জোহেন্সবার্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই সিরিজেই খেলার জন্য পুরোপুরি তৈরি প্রোটিয়া গতিতারকা।

