সার্ক খেলোয়াড় নীতির পুনর্মূল্যায়নের দাবি
দেশি খেলোয়াড়দের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বর্তমান ‘সার্ক খেলোয়াড় নীতি’র পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে ফুটবল প্লেয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (এফপিডব্লিউএ)। সম্প্রতি এই দাবিগুলো তুলে ধরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সংগঠনটি।
আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার এবং খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি মৌসুম থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ঘরোয়া লিগে একে অপরের খেলোয়াড়দের ‘স্থানীয়’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতি গ্রহণকারী প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এর ফলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ফুটবলাররা এখন নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের লিগে খেলছেন। কিন্তু দেশি খেলোয়াড়দের আক্ষেপ, তারা বিদেশের মাটিতে অনুরূপ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্মারকলিপি হস্তান্তরের পর জাতীয় দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে কেবল তারিক কাজী ভুটানের লিগে খেলছেন। আমাদের খেলোয়াড়রা অন্য দেশে সেভাবে সুযোগ না পেলেও বিদেশি খেলোয়াড়রা ঠিকই এখানে এসে খেলছেন। বিষয়টি তারা ফেডারেশনকে অবহিত করেছেন। অন্যান্য খেলোয়াড়দের অভিযোগ, এই নীতির কারণে নির্দিষ্ট কিছু পজিশনে, বিশেষ করে স্ট্রাইকার হিসেবে দেশি খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাব সর্বোচ্চ পাঁচজন সার্কভুক্ত দেশের এবং পাঁচজন সার্কের বাইরের খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারে। তবে একাদশে সর্বোচ্চ তিনজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো যায় এবং প্রতিটি দলে অন্তত একজন অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড় রাখা বাধ্যতামূলক।
প্রতিবাদকারী ফুটবলাররা মনে করেন, লিগের এই কাঠামো দেশীয় প্রতিভার বিকাশে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। তাই স্মারকলিপিতে সার্ক নীতির পর্যালোচনার পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, লিগে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিদেশি খেলোয়াড়দের কোটা হ্রাস এবং ফেডারেশনের অধীনে খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, লিগের শীর্ষ ক্লাবগুলোর মধ্যে বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী ও মোহামেডান এখনও এই সার্ক নীতি কাজে লাগায়নি। তবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ফর্টিস এফসি, রহমতগঞ্জ ও পুলিশ এফসির মতো বেশ কিছু ক্লাব তুলনামূলক কম খরচে সার্কভুক্ত দেশের খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়ে দারুণ সুফল পাচ্ছে।
পুরো ঘটনায় একটি মজার বৈপরীত্য হলো, স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী চারজনের মধ্যে মেহেদী হাসান মিঠু, আলমগীর কবির রানা এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম এই তিনজনই মোহামেডান অথবা আবাহনীর হয়ে খেলেন। অথচ এই দুটি ক্লাবের কোনোটিতেই সার্ক কোটার কোনো খেলোয়াড় নেই।