২৩ বছর পর ঘরের মাঠে সাফ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন তপুর

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে একবারই শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের। সেই ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে জয়ের পর হতাশ হতে হয়েছে বারবার। দুই যুগ পর আবার উৎসবের উপলক্ষ আসতে পারে এবার। অন্তত নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল নিয়ে ঘরের মাঠে ফেভারিট হয়েই নামবে বাংলাদেশ দল। ডিফেন্ডার তপু বর্মণের আশা, কঠিন লড়াই পেরিয়ে এবার ধরা দেবে স্বপ্নের শিরোপা।

আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হবে দক্ষিণ এশিয়ার পুরুষদের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর। ১৭ নভেম্বর হবে ফাইনাল। গতকাল ভুটানের থিম্পুতে হয়ে যায় টুর্নামেন্টের ড্র। তাতে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটানকে। ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠলে এই গ্রুপে যোগ দেবে নেপাল। ‘বি’ গ্রুপে ভারত পেয়েছে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান।

নেপাল না এলে বাংলাদেশের গ্রুপকে কিছুটা সহজ মনে করছিলেন অনেকে। তবে তপুর মতে তাদের গ্রুপটাই আসলে কঠিন। কারণ প্রবাসী ফুটবলার সমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপে তপু বলেন, ‘গ্রুপটা কঠিন হয়েছে। সত্যিই কঠিন হয়েছে। আমরা অনেকদিন যাবৎ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচ খেলি নাই, স্পেশালি ন্যাশনাল টিমের। এবার এশিয়া কাপ বাছাইপর্বে তারা ভালো করেছে, আর শুধু গোলকিপার বাদে তাদের সব প্রবাসী খেলোয়াড়। আর ভুটানের সঙ্গে আমরা খেলেছি, ভুটানকে খুব ভালোভাবে জানি।’

তবে কঠিন লড়াই হলেও নিজেদেরই এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ দলের অন্যতম ভরসা তপু, ‘আমরা বিশ্বাস করি—আমাদের হোম গ্রাউন্ডে খেলা এবং আমাদের একটা মানুষের যে সমর্থন আমরা পাব, সেটা আমরা সুবিধা মনে করছি। তার সঙ্গে মাঠটা আসলে আমরা সেপ্টেম্বর উইন্ডোতেও ম্যাচ খেলব ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। তো সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে খুবই খুবই ইতিবাচক মনে হচ্ছে এবং স্পেশালি আই ফিল ভেরি কনফিডেন্ট।’

সাম্প্রতিক সময়ে দলের পারফরম্যান্স, নতুন কোচ হিসেবে টমাস ডুলির যুক্ত হওয়া মিলিয়ে তপু স্বপ্ন দেখতে ভরসা পাচ্ছেন, ‘আমাদের গত বছরের স্পেশালি এশিয়া কাপ বাছাইপর্ব, তার সঙ্গে ধরেন স্যান মারিনোকে আমরা হারিয়েছি।’

‘আর ডুলি, আসলে তিনি প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, পাস করেছেন। আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, আমাদের এখন যে দলটা আছে, এই দলটা একটা ইউনিটি এবং ইউনাইটেড হিসেবে আমরা সবসময় মাঠে নামি।’

২০০৩ সালের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা তাই বেশ উজ্জ্বল মনে করছেন তপু,

‘২৩ বছর আগে আমরা সাফ জিতেছি ২০০৩ সালে, তো এটা আবার পুনরায় আমাদের দেশেই হচ্ছে। ২৩ বছর পরে আমরা যেই কাঙ্ক্ষিত ফল, এটা আমরা সবাই চাই, স্পেশালি। আমার কাছে মনে হয় যে, আমরা ভালো করব এবং সাফ ফুটবল এবার আমাদের একটাই টার্গেট—সেটা হলো চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সেই ক্ষেত্রে আমরা সবাই একত্র হয়ে মাঠে নামব।’