বিশ্বকাপের টিকিট কেন এত দামি? ব্যাখ্যা দিলেন ইনফান্তিনো

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপে শুধু ফুটবল নয়, এটা এক বিশাল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও। আর সেই আয়োজন ঘিরেই যখন টিকিটের মূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক, তখন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার দাবি, এই দাম ‘বিশেষ বাজারের’ বাস্তবতা, যেখানে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শুক্রবার ‘সেমাফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ২০২৬’ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিফা সভাপতির জোরালো যুক্তি, ফিফা একটি অলাভজনক সংস্থা, যার মূল আয় আসে শুধু বিশ্বকাপ থেকেই। 'চার বছরে এক মাসই আমাদের আয় করার সময়। বাকি ৪৭ মাস আমরা সেই অর্থ ব্যয় করি ফুটবল উন্নয়নে,' বলেছেন ইনফান্তিনো।

তার মতে, বিশ্বকাপ থেকে আসা বিপুল অর্থ বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হয়, যার মধ্যে অধিকাংশ দেশ এই সহায়তা ছাড়া নিজেদের কাঠামো গড়ে তুলতে পারত না।

তবে বাস্তবতা হলো, টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ভক্তদের অসন্তোষ বাড়ছে। গত অক্টোবরে প্রথম ধাপে বিক্রি শুরু হওয়ার পর ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ মডেলে ধাপে ধাপে দাম বেড়েছে। এপ্রিলের শুরুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে প্রায় ৪০টির টিকিট ‘শেষ মুহূর্তের বিক্রয় পর্বে’ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। নতুন টিকিট ক্যাটাগরি চালুর বিষয়টিও অনেক সমর্থকের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে ইনফান্তিনোর ব্যাখ্যা, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের বাজার ‘খুবই বিশেষ’। তিনি বলেন, 'কনসার্ট বা এনএফএল ম্যাচের টিকিট নিয়ে তো কেউ অভিযোগ করে না।' যদিও এই মন্তব্যের জবাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে, তিনি সোজাসাপ্টা বলেন, 'এটাই বাজারের বাস্তবতা।'

অন্যদিকে, ইউরোপের সমর্থক সংগঠন ফুটবল সাপোটার্স ইউরোপ (এফএসই) এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠন ইউরোকনজুমারস ইউরোপীয় কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। তাদের অভিযোগ, ফিফা তাদের ‘মনোপলি’ অবস্থান ব্যবহার করে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য নির্ধারণ এবং অস্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া চাপিয়ে দিচ্ছে।

ইনফান্তিনো অবশ্য দাবি করেছেন, ‘হার্ডকোর’ সমর্থকদের জন্য ৬০ ডলারের টিকিট ক্যাটাগরিও রাখা হয়েছে, এমনকি ফাইনালের জন্যও। তবে সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, প্রাথমিক বিক্রির সময় এই দামের টিকিট খুবই সীমিত ছিল।

আরেকটি বড় ইস্যু হচ্ছে ভিসা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে কিছু দেশের সমর্থকদের প্রবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান ও হাইতি।

এই প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, 'আমরা নিশ্চিত করব যেন সব দল, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, এমনকি সমর্থকরাও আসতে পারে।' তিনি ‘ফিফা পাস’ নামে একটি দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেন, যা টিকিটধারীদের জন্য সহজতর ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।